মাদরাসায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি এমজেএফের
দেশের বিভিন্ন মাদরাসায় শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। একই সঙ্গে দেশের সব মাদরাসায় অবিলম্বে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির মতে, নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভধারণের ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও অধিকাংশ মাদরাসায় এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীনের আনাম বলেন, মাদরাসাও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তাই উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বাইরে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ২৮ জন নারী ও মেয়ে শিশু যৌন সহিংসতাসহ বিভিন্ন ধরনের শিকার হয়েছেন। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শুধু মেয়ে শিশুর বিরুদ্ধেই ৪৭৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে এমজেএফ।
নেত্রকোনার ঘটনায় মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত অক্টোবর থেকে একাধিকবার ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তাকে আটক করে র্যাব।
এদিকে, পৃথক আরেক ঘটনায় পটুয়াখালীতে ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদরাসা শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এমজেএফ বলছে, ২০২৩ সালে উচ্চ আদালত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাদরাসাগুলো অনেকাংশে বাইরে থেকে গেছে। তাই দ্রুত সব মাদরাসাকে এ নির্দেশনার আওতায় এনে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এমজেএফ। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ কার্যকরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, মাদরাসায় শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অনেক অপরাধই অভিযুক্তদের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে গোপন থেকে যায়। তাই যথাযথ আইন প্রয়োগ, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং শিশু সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব হলেও বাস্তবে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াধীন যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন দ্রুত প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এসএম/এমএএইচ/