‘অপেক্ষা করেন, দেখতে পাবেন’- গডফাদারদের আটক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৩৫ পিএম, ০৭ মে ২০২৬
সিলেট বিভাগের পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে সচিবালয়ে সভা শেষে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ/ছবি: সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান বিশেষ অভিযানে গডফাদারদের গ্রেফতারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সময় তো শেষ হয়ে যায়নি। আপনারা অপেক্ষা করেন, দেখতে পাবেন।’

বৃহস্পতিবার (৬ মে) সচিবালয়ে সিলেট বিভাগের পাথর ও বালু মিশ্রিত পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এবং প্রতিদিন কিছু না কিছু দাগি আসামি- মাদক সংক্রান্ত, সন্ত্রাসবাদী বা জুয়া এবং অস্ত্রধারী- এগুলো গ্রেফতার হচ্ছে। সে বিষয়ে আমাদের সংক্ষিপ্ত আদালতের মাধ্যমে কিছু সাজাও নিশ্চিত করা হচ্ছে আর কী।’

যারা নেপথ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় দেন, তাদের কি আইনের আওতায় আনা হবে- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘তাদের কি আইনে আনা নিষেধ আছে? তাহলে কেন প্রশ্ন করা হবে? আইনের ঊর্ধ্বে তো কেউ নয়। আমরা সঠিকভাবে তালিকা প্রণয়ন করে অভিযানে নেমেছি। কোথাও কোথাও যৌথ অভিযান চলছে এবং কোথাও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো একক অভিযান চালাচ্ছে। এটার অগ্রগতি আছে এবং এটা দৃশ্যমান যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে আপনারা দ্বিমত পোষণ করতে পারেন।’

পাথর কোয়ারি ইজারায় যাচাই কমিটি

মন্ত্রী জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলা- সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কোয়ারিগুলো সচল করা নিয়ে আজ তারা বৈঠক করেন। এক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং এ-সংক্রান্ত সব আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষিত কোয়ারি ছাড়া বাকিগুলো কীভাবে সীমিত আকারে ইজারা দেওয়া যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বৈঠকটি হয়।

আরও পড়ুন
পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে
শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করতে প্রস্তুত সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
 
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে তারা সবার মতামত অনুসারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আগে মাঠ পর্যায়ের জরিপ প্রতিবেদন দরকার। এজন্য কমিটিতে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, উভয় জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একজন পরিচালক থাকবেন সদস্যসচিব হিসেবে। কমিটি প্রয়োজনে যদি আরও বিশেষজ্ঞ নিতে চায় সে সুবিধাও রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যে নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে, তা এই কমিটি সরেজমিনে দেখবে। তারা পরীক্ষা করবে- কোথায় পানি আটকে যাচ্ছে পাথর ও বালি জমা হয়ে এবং কোথায় নদীভাঙনের কারণে সীমান্ত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে কী পরিমাণে ও কত গভীরতায় পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশ সংরক্ষণ করা যাবে তা নিয়ে পরামর্শ দেবে। এছাড়া, সাদা পাথর, বিছানাকান্দি ও ভোলাগঞ্জের মতো বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় যাতে পর্যটক আকর্ষণ করা যায় সে বিষয়েও পরামর্শ দেবে, যোগ করেন মন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেসব জায়গায় যাতে আমরা অন্তত একটা শৃঙ্খলা রাখতে পারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা আছে এখানে, দুই এসপিকেও সেখানে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। যাতে দুর্বৃত্তায়ন না হয় এবং পাথর লুট না হয় সে বিষয়ে তারা পরামর্শ দেবেন। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে আমরা পাথর আহরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ- এনিয়ে কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বসেছিলাম। আশা করি আমরা সব প্রতিবেদন পাবো এই মাসের শেষ নাগাদ। তারপর জুনের প্রথম সপ্তাহে আবার বসবো।’ 

বিভিন্ন পাথর কোয়ারি সম্পর্কে উচ্চ আদালতের দু-একটি আদেশ ও রায় আছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই জেলা প্রশাসক সব মামলার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থা নেবেন এবং অগ্রগতি কী হলো তা আমাদের পরবর্তী মিটিংয়ে জানাবেন। আমরা যা-ই করবো আইন মেনে এবং আদালতের রায় মাথায় রেখে, সম্মান জানিয়ে বিধি মোতাবেক করার চেষ্টা করবো।’

আরএমএম/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।