প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘হেলথ কার্ড’ চাইলো পুলিশ
পুলিশ সদস্যদের জন্য মেডিকেল সার্ভিস বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ‘হেলথ কার্ড’ চেয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট) আহম্মদ মুঈদ।
তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রাইভেট হাসপাতাল ও বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু পুলিশের যারা অল্প বেতনে চাকরি করেন করেন তাদের পক্ষে খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি আহম্মদ মুঈদ বলেন, প্রায় দুই লাখ পুলিশ সদস্য ও পরিবারের ১০ লাখ সদস্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল ও বিভাগীয় শহরে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। প্রতিদিন রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে দুই থেকে তিন হাজার রোগী সেবা নেন। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালটি ৫০০ শয্যা হলেও অর্ধেক সাপোর্ট দেওয়া লাগে জনবলের অভাবে। পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হন এবং ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা প্রায়ই আহত হন। তাদের দ্রুত রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আনার জন্য যে সাপোর্ট তার ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে দক্ষ চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি থাকার কারণে চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রাইভেট হাসপাতাল ও বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু পুলিশের যারা অল্প বেতনে চাকরি করেন করেন তাদের পক্ষে খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, আমরা চাই পুলিশের সদস্যদের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালু হোক। এই কার্ডের মধ্যদিয়ে প্রতিটি পুলিশ সদস্য যেন মেডিকেল সাপোর্ট পান। আইজিপি এটা উদ্যোগ নিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই।
কনস্টেবলদের ব্যারাক ঘাটতির কথা উল্লেখ করে আহম্মদ মুঈদ বলেন, রাজারবাগে সাড়ে চার হাজার সিটের বিপরীতে পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্য যাত্রিযাপন করেন। কেউ বেড পান, কেউ পান না। নতুন ভবনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে সিটের ঘাটতি পূরণ হবে।
পুলিশ ঘুস খায়- এমন কথা প্রচলিত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্য। তবে পুলিশ সদস্যদের বেসিক চাহিদা পূরণ করা গেলে বদনাম থাকবে না। পুলিশের চাহিদা হলো বাচ্চা ভালো স্কুলে পড়বে এবং ভালো একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থা। প্রতিটি জেলায় পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের জন্য ভালো স্কুল নির্মাণ ও কোয়ার্টারগুলো উন্নত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে।
টিটি/ইএ