আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় একাধিক হত্যা ও ছিনতাই মামলার শীর্ষ আসামিদের গ্রেফতার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এসময় আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালালে এক ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় তিন ছিনতাইকে গ্রেফতার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলেন—পলাশ সরকার ওরফে পলাশ (২৯), সাকিব সরকার ওরফে সাকিব (২০) ও বিপ্লব হোসেন (৩১)। গতকাল সোমবার (১১ মে) সকালে মোহাম্মদপুর থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ধানমন্ডি থানার বরাত দিয়ে এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, সোমবার সকালে ধানমন্ডি থানার একটি টহল টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, ধানমন্ডি থানার সন্দিগ্ধ আসামিরা মোহাম্মদপুর থানাধীন টাউন হল এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের টহল টিম সেখানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের সঙ্গে থাকা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় গ্রেফতার পলাশ সরকার ওরফে পলাশ চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ধানমন্ডি থানার এসআই সাইফুল আলমকে আঘাত করে। আঘাতটি তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে লেগে গুরুতর জখম হয়। গ্রেফতার সাকিব সরকার ওরফে সাকিব চাপাতি দিয়ে এসআই সাইফুল আলমকে হত্যার উদ্দেশে কোপ দিলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সাকিবের বাম পায়ের কনিষ্ঠ আঙুলে গুলি লাগে।
তিনি আর বলেন, গ্রেফতার পলাশ এসআই সাফায়েদুর রহমানের ওপরও হামলা চালিয়ে তাকে কিল-ঘুষি মারে। পরে ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামিরা পালিয়ে যায়।
এসময় তাদের হেফাজত থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি চাপাতি, দুটি ছুরি, একটি ফোল্ডিং ছুরি, একটি খেলনা পিস্তলসহ বিভিন্ন মডেলের আটটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
তদন্তের তথ্য তুলে ধরে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতাররা শীর্ষ ছিনতাইকারী। পলাশের বিরুদ্ধে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।
কেআর/এমকেআর