কর্মশালায় বিশিষ্টজনেরা

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আর্থিক কাজেও অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৬ পিএম, ১২ মে ২০২৬
কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে ‘রোহিঙ্গাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি : দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্ভাবনা শীর্ষক’ কর্মশালা, ছবি: সংগৃহীত

‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এ তরুণ জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা না গেলে মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক কাজেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।’

মঙ্গলবার (১২ মে) কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে ‘রোহিঙ্গাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি : দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্ভাবনা শীর্ষক’ কর্মশালায় এসব অভিমত তুলে ধরেন বিশিষ্টজনেরা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতা সংস্থা ইউকেএইডের সহায়তায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (এইচসিএমপি)। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে করণীয় ও সুপারিশ তুলে ধরতে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ব্র্যাক বাস্তবতার নিরিখে এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া করেছে। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে হবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভালো কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।

ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক (অ্যাডভোকেসি, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এনগেজমেন্ট) কেএএম মোর্শেদ বলেন, ব্র্যাক উদ্ভাবনীমূলক পাইলট উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এসব কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন ও বিস্তৃত পরিসরে সম্প্রসারণে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা ও অঙ্গীকার প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর (মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আগত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিক-এফডিএমএন) আর্থিক কাজেও অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যেসব সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ক্যাশ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ভিত্তিক পাইলট কার্যক্রম গ্রহণ, ব্যাংক ও এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব, রোহিঙ্গাদের সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও নারীকেন্দ্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচির সম্প্রসারণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক আয় বৃদ্ধিতে যুবদের সম্পৃক্তকরণ, জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগের সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে সমন্বয় করা ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রিফুইজি কোঅর্ডিনেশন প্লাটফর্মের (আরসিপি) হেড ডেভিড বাডগেন, ক্যাম্প ইনচার্জ (ক্যাম্প ১ ইস্ট ও ১ ওয়েস্ট) মো. শরিফুল ইসলাম, সুরাইয়া আক্তার সুইটি (ক্যাম্প ৪ ও ৪ এক্সটেনশন), মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম (ক্যাম্প-৯ ও ক্যাম্প-১০), ক্যাম্প ইনচার্জ (৩ ও ৫) মো. আব্দুর রউফ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সরকারি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) আর্থিক সহায়তায় পাইলট প্রকল্পটি শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ রয়েছে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত। বর্তমানে ক্যাম্প ২ ওয়েস্ট, ক্যাম্প ৩, ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশন, ক্যাম্প ৯, ক্যাম্প ১৪, ক্যাম্প ১৫, ক্যাম্প ১৬-তে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৬০ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আনুষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন, ৪০০ জনকে অনানুষ্ঠানিক খাতে প্রশিক্ষণ, ৩৯৮ জন নারীকে নগদ সহায়তা, ১২৩ জন সদস্যকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন সহায়তা এবং) শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সহযোগিতায় ২৯৭ জনের মধ্যে মোবাইল সিম বিতরণ করা হয়েছে।

টিটি/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।