প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
জনগণের কাছে সশস্ত্র বাহিনীর সঠিক চিত্র পৌঁছাতে হবে
সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেম, পেশাদারত্ব, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, দুর্যোগে সহায়তা, জাতীয় উন্নয়নে অবদান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় তথ্যনির্ভর, দায়িত্বশীল ও গ্রহণযোগ্যভাবে দেশবাসীসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকা সেনানিবাসে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পরিদর্শনকালে তিনি এ পরামর্শ দেন। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইএসপিআর পরিদপ্তরে এসে পৌঁছালে পরিদপ্তরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী তাকে স্বাগত জানান। এসময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পরিদপ্তরের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে আইএসপিআর পরিচালক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে পরিদপ্তরের সার্বিক কার্যক্রম, দায়িত্বপরিধি, গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় সাধন, সংবাদ পরিবেশন প্রক্রিয়া, গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম, তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরার চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় আইএসপিআরের বর্তমান সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।
আইএসপিআরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পরিদপ্তরের বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করেন। এছাড়া পরিদপ্তরের দৈনন্দিন কার্যপ্রণালি, সংবাদ প্রস্তুত ও প্রচার প্রক্রিয়া, তথ্য যাচাই ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যম সমন্বয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
আরও পড়ুন
একদিনে ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ
আমরা ফটোকার্ডের রাজনীতি করি না: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম আইএসপিআরের কার্যক্রম আরও গতিশীল, গবেষণা নির্ভর, সময়োপযোগী ও জনসম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শান্তিকালীন, দুর্যোগকালীন, সংকটকালীন পরিস্থিতিসহ যে কোনো জাতীয় প্রয়োজনের মুহূর্তে জনগণের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক ভূমিকা দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করছে।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণশীল তথ্যপ্রবাহ, সীমিত প্রচার এবং পর্যাপ্ত জনসম্পৃক্ততার অভাবে জনগণের কাছে সশস্ত্র বাহিনীর বহুমাত্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ধারণা পৌঁছায় না। এই প্রেক্ষাপটে আইএসপিআরকে জনগণের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেম, পেশাদারত্ব, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, দুর্যোগে সহায়তা, জাতীয় উন্নয়নে অবদান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকা তথ্যনির্ভর, দায়িত্বশীল ও গ্রহণযোগ্যভাবে দেশবাসীসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে হবে।
বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য উপস্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় স্বার্থ, জনগণের আস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে আইএসপিআরকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর যোগাযোগ কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এই লক্ষ্যে তিনি গবেষণা, তথ্য সংরক্ষণ, গণমাধ্যম সমন্বয়, ডিজিটাল যোগাযোগ, প্রকাশনা কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততামূলক উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেন।
এসময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পরিদপ্তরের মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ড জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য সার্বিক দিকনির্দেশনা দেন।
টিটি/কেএসআর