মোসাব্বির হত্যায় অস্ত্র সরবরাহে জাহিদুল জড়িত থাকতে পারে: ডিএমপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৬ পিএম, ১৪ মে ২০২৬
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি জাহিদুল ইসলাম, ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি জাহিদুল ইসলামকে (৩১) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহে তার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডে জাহিদুল ইসলামের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার ঘটনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিনগত রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে বনানী থানার একটি দল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পেছনে মহাখালী টিবি গেট এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালায়। এ সময় জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। জাহিদুলের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু, ২ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির ৭১ হাজার ২০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, জাহিদুল ইসলাম তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও শীর্ষ মাদক কারবারি। হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। র‌্যাব, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়ায় হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে মোসাব্বিরকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। মোসাব্বির একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদকও ছিলেন। আর মাসুদ তেজগাঁও থানার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মোসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ৮ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

একই ব্রিফিংয়ে রাজধানীতে চলমান বিশেষ অভিযানের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের ঘোষণার পর ১ মে থেকে ঢাকা মহানগরে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, ১ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত অভিযানে তালিকাভুক্ত ১৭৮ জন চাঁদাবাজ, তাদের ৩৪৫ জন সহযোগী, ৪৭০ জন ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্য এবং ৪৮৩ জন মাদক কারবারিসহ মোট ১ হাজার ৪৭৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিএমপির এ কর্মকর্তা ব্যবসায়ী ও নগরবাসীকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু গ্রেফতার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এ সময় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন, ডিসি (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন, গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ, গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান এবং বনানী থানার ওসি মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

টিটি/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।