আরজি করের ঘটনায় ৩ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ১৬ মে ২০২৬
আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল/ ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরই বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে তিন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন তিনি।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (মধ্য) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডেপুটি প্রশাসন বা ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) অভিষেক গুপ্তা। এই তিন আইপিএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত শুক্রবার (১৫ মে) নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

নবান্নের সভাগৃহে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আপনারা জানেন, আরজি করের ঘটনার পর আমি মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে মাননীয় মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত জানতে চেয়েছিলাম, কলকাতা পুলিশ আরজি করের ঘটনা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিয়েছিল। মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব গত দুইদিনে তার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সেটি দেখার পরই আজ আমরা এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমি ঘোষণা করছি, ওই সময় ঘটনাটিকে পুরোপুরি “মিসহ্যান্ডেল” বা ভুলভাবে সামলানো হয়েছিল এবং এফআইআর দায়েরের বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্ত করা হয়নি।’

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের কাছে নির্যাতিতার মায়ের পক্ষ থেকে অনেক তথ্য এসেছে। দুজন পুলিশ কর্মকর্তা নাকি তাদের টাকা দিতে চেয়েছিলেন। এই বিষয়টি তদন্ত করতে হবে। আমরা মনে করি, এই তদন্তগুলো করতে গেলে যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বরখাস্ত রেখে তদন্ত করা উচিত। নইলে তদন্ত কখনো নিরপেক্ষ ও সঠিক হতে পারে না। এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এখন ডিপার্টমেন্টাল ইনকোয়ারি বা বিভাগীয় তদন্ত হবে।’

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিভাগীয় তদন্তের সময় যাদের বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি, তাদের বক্তব্য যেমন নেওয়া হবে, তেমনি নির্যাতিতার পরিবার যদি চায়, তবে তাদের বাড়িতে গিয়েও বক্তব্য নেওয়া হবে। ওই সময়ের ফোনকল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট—সব বের করা হবে। দেখা হবে তখনকার পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছিল। কোনো মন্ত্রী বা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কোনো নির্দেশ ছিল কিনা, আমরা সব বের করব।’

এদিকে আরজি করে নিহত চিকিৎসকের মা ও নবনির্বাচিত বিধায়ক রত্না দেবনাথ এই পদক্ষেপে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এখানে আরও অনেক মাথা রয়েছে। প্রধান অপরাধী হলেন মমতা ব্যানার্জী। তাকে যদি ধরে জেলে ঢোকানো যায়, তবে বাকি সব অপরাধীর নাম বেরিয়ে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে খুশি হওয়ার কোনো বিষয় নেই। তবে যদি সঠিক বিচার হয়, তবে অপরাধীরা ভয় পাবে এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে উঠবে—আমি এটাই চাই।’

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের শিকার হন ওই চিকিৎসক ছাত্রী। ওই ঘটনায় গোটা ভারত জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে নাগরিক সমাজ ‘রাত দখল’সহ একাধিক দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। সেই থেকে টানা দেড় বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় আইন, আদালত ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নির্যাতিতার বাবা-মা।

ওই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে আগেই গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। পরে তদন্তভার হাতে নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই সঞ্জয় রায়কেই মূল দোষী হিসেবে চিহ্নিত করে চার্জশিট দেয়। তবে অভয়ার মা রত্না দেবনাথের দাবি ছিল, একা সঞ্জয় রায় এই কাণ্ড ঘটায়নি, এর পেছনে আরও একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন।

ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই দুমাস আগে বিজেপিতে যোগ দেন রত্না দেবনাথ। এরপর ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে তিনি জয়লাভ করেন।

ডিডি/কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।