স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
র্যাবের নাম পাল্টালে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করবে
এলিট ফোর্স হিসেবে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এমনটি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটা নতুন ফোর্স রিনেম করি (নাম পরিবর্তন) বা রেইজ করি, সেখানে হয়তো তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, র্যাবের জন্য নতুন আইন হচ্ছে। সেখানে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র্যাব তার সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত করবে এবং আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যেই আইনের অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে একটা বাহিনী থাকবে। আমরা র্যাবের নাম আবার রিনেম করবো কি না বা অন্য নতুন এলিট ফোর্স আমরা রেইজ করব কি না, সেটা এখনো চিন্তাভাবনার বিষয়। সরকার বিবেচনা করছে। তবে এলিট ফোর্সের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা আমরা এনশিওর করবো।
তিনি বলেন, অথরিটি থাকবে, রেসপনসিবিলিটি থাকবে। সঙ্গে সঙ্গে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিশ্চিত করা হবে সেই একই আইনে। সেভাবেই আমরা আগামীতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবো এবং জননিরাপত্তা, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আমরা জানি যে র্যাবের কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না ফ্যাসিবাদী শাসনামলে, যে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেটা পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি-সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে। কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, কয়েকজন কর্মকর্তার কাজের দায়-দায়িত্ব পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। আমরা এখন যার যার নিজস্ব আইনে, সেই প্রতিষ্ঠানের আইনে, সেই সব অফিসারের অ্যাকাউন্টেবল করার জন্য এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য অলরেডি অনুশাসন দিয়েছি। কারণ, প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়। আইন আছে প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে, কর্মকর্তারা কীভাবে সেই আইনমাফিক পরিচালিত হবে।
যদি কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী বিপথগামী হয় বা বিপথে যায় তবে তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়। আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি। ঠিক আমেরিকা যে সময় র্যাবের ওপর স্যাংশন দেয়, সেই সময় র্যাব এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল- রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য, একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের জন্য যে উগ্র বাসনা তাদের ছিল, সেটা কায়েমের জন্য এভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে কারণে র্যাবের ওপর যে স্যাংশনটা আমেরিকা দিয়েছে, সেটা এখনো বহাল। কিন্তু আমরা যদি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা নতুন ফোর্স রিনেম করি বা রেইজ করি, সেখানে হয়তো তারা বিষয়টা পুনর্বিবেচনা করবে। সেটা আশা করা যায়। তো এখন অনেক কিছু বাকি আছে, দেখা যাক।
র্যাবের জন্য একটা আইন ফ্রেম করার জন্য কমিটি করেছি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেই আইনটা আমি নিজে লুক-আফটার করবো। সেই আইনটা আমার সামনে এখনো আসেনি, আমি কিছু সময় দিয়েছি। সেখানে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।
বর্তমানে র্যাব যে আইনে পরিচালিত হচ্ছে সেটা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জানিয়ে তিনি বলেন, একটা প্রতিষ্ঠান এভাবে অ্যাডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া সঠিক ছিল না। এখন আমরা আইন করবো আলাদা এলিট ফোর্সের জন্য। সেখানে অথরিটি দেওয়া থাকবে, তাদের রেসপনসিবিলিটি ফিক্স করা থাকবে এবং সেক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহিতা, অ্যাকাউন্টেবিলিটি এবং ট্রান্সপারেন্সিটাও নিশ্চিত হবে। সেই হিসেবে আইনটা আসবে। এখনো ডিটেইল বলার সময় আসেনি।
র্যাব থাকবে না বিলুপ্ত করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রত্যাশা মানুষের। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য একটা এলিট ফোর্স অবশ্যই দরকার হবে। তাদের যে ইকুইপমেন্টস, লজিস্টিকস, ট্রেনিং, ফ্যাসিলিটিস, অ্যাসেটস-সবকিছু সেখানে যাবে।
র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও র্যাব মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. আহসান হাবীব পলাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টিটি/এএমএ