মানুষ হত্যাকারীরা দেশ ও মানবতার শত্রু : প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

পুড়িয়ে মানুষ হত্যাকারীদের দেশ, জনগণ ও মানবতার শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে এ ধরনের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকেলে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি মেলা ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৫’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যখন দেখি আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসীরা পেট্রোল বোমা মেরে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে, মুরগিবাহী ট্রাক ও পাঠ্যপুস্তক বহনকারী যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে, তখন আমি গভীরভাবে বেদনাহত হই। তখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় মানুষ এ ধরনের অমানবিক কাজ করতে পারে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা আন্দোলন নয়। যারা এ ধরনের অপরাধ করছে তারা দেশ, জনগণ ও মানবতার শত্রু। আমি এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বহুবার প্রাকৃতিক ও মানুষের সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা করেছে। গত একমাস দেশ মানুষের সৃষ্ট দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে। আমরা এই পরিস্থিতি অতিক্রম করবো ইনশাআল্লাহ।

শেখ হাসিনা বলেন, কিছু মানুষ আছে যারা দেশের উন্নয়ন দেখেন না। চোখ থাকা সত্ত্বেও তারা অন্ধ। যারা উন্নয়ন থেকে অন্ধকারের দিকে দেশকে ঠেলে দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।

২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার বর্তমান সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনগণের ক্ষমতায়নে তথ্যপ্রযুক্তির লাগসই ব্যবহার নিশ্চিত করা। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার সহজলভ্য করা। ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে ‘প্রযুক্তি বিভেদ’ মুক্ত দেশ গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে কম্পিউটারের পাশাপাশি আমরা মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তাঁর সরকার আইটি শিল্পের উন্নয়ন ও এ খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার চাহিদা পূরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে আইটি শিল্প থেকে ৩৪ হাজার মানুষ সুফল পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বেসরকারি খাতের ইতিবাচক ভূমিকা প্রশংসনীয়। বেসিস এ শিল্পের জন্য ২৩ হাজার উপযুক্ত জনবল তৈরি করছে। এর পাশাপাশি বেসিস ২০১৮ সালের মধ্যে ১০ লাখ নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সৃষ্টিতে কাজ করছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফ্টওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) যৌথভাবে চার দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ মেলার লক্ষ্য হচ্ছে আইটি খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে তুলে ধরা। মেলা আয়োজনে এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলর সহায়তা করেছে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

এতে বেসিসের সভাপতি শামীমা হাসান স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির কংগ্রেসম্যান মাইক হোন্ডার একটি ভিডিও মেসেজ দেখানো হয়।

আরএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।