রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ নকল স্যালাইন জব্দ, আটক ৪


প্রকাশিত: ১২:৫৬ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

রাজধানীর আদাবর থানাধীন বায়তুল আমান হাউজিং এলাকায় একটি কসমেটিক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ খাবার স্যালাইন, টেস্টি স্যালাইন এবং ফ্রুট সিরাপ জব্দ করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া এসব তৈরি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আনিসুর রহমানের ভ্রাম্যমান আদালত।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং এলাকার ‘তনু নিউট্রিশন ফুড এন্ড কসমেটিক্স লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ওই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-২ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এসএসপি মারুফ আহমেদ।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, র‌্যাব-২ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে আদাবর থানাধীন বায়তুল আমান হাউজিং এলাকায় একটি কসমেটিক প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে খাবার স্যালাইন, ফ্রুট সিরাপ তৈরি করা হচ্ছে। এমন খবরে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষ অভিযানিক দল বায়তুল আমান হাউজিং এর ১৭/বি নং রোড সংলগ্ন ১০৩৪ নং বাসায় অভিযান চালায়।

এ সময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএসটিআইএর কর্মকর্তার সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে লাইসেন্স ব্যতীত বিপুল পরিমাণ অবৈধ খাবার স্যালাইন, টেস্টি স্যালাইন, ফ্রুট সিরাপ এবং এসব ক্ষতিকারক ঔষধ তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

লাইসেন্স ব্যতীত অবৈধভাবে ঔষধ উৎপাদন, মজুদ ও বিক্রির দায়ে তনু নিউট্রিশন ফুড এন্ড কসমেটিক্স লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মোঃ আক্তারুজ্জামান (৬৩), সেলস এক্সকিউটিভ ম্যানেজার মোঃ মিজানুর রহামান(২৮), প্লান ম্যানেজার মোঃ কামরুজ্জামান (৩৪) ও সেলস ম্যানেজার মোঃ মহি উদ্দিন (৪৫)কে আটক করা হয় বলে জানান এসএসপি মারুফ আহমেদ।

তিনি আরও জানান, তনু নিউট্রিশন ফুড এন্ড কসমেটিক্স লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানটির আয়ুর্বেদিয় ঔষধ তৈরি করার লাইসেন্স থাকলেও গোপনে তারা অবৈধ খাবার স্যালাইন, টেস্টি স্যালাইন, ফ্রুট সিরাপ প্রস্তুত ও বাজারজাত করে আসছিল। তারা যে সকল স্যালইন বাজারজাত করছে বিএসটিআই কর্তৃক তার কোন অনুমতি নাই।

এছাড়া অত্যান্ত নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব স্যালাইন তৈরি করা হচ্ছে। যে গুলো পান করলে স্বাস্থ্যর ঝুঁকি রয়েছে।

ফ্রুট সিরাপ নামে যে এনার্জি ড্রিংক বাজারজাত করা হচ্ছে প্রাথমিক পরীক্ষায় তাতে অপিয়াম পাওয়া গেছে (যা নেশাদ্রব্য ফেন্সিডিলের অনুরুপ)। ফেন্সিডিলের মত নেশা দ্রব্য হওয়ায় বাজারে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করতে যে কেমিক্যাল ব্যবহার করছে তা অনুমতিবিহীন এবং নিম্নমানের।

কারখানাটিতে কোন ল্যাবরেটরি নাই। একজন ক্যামিস্ট থাকার কথা থাকলেও উপর্যুক্ত কোন ক্যামিস্ট নেই। ক্যামিস্ট নামধারী একজন থাকলেও তার এ বিষয়ে কোন যথাযথ সার্টিফিকেট নাই।

ঔষধ প্রশাসনের বিশেষজ্ঞদের মতে, জব্দকৃত অবৈধ ঔষধ, খাদ্যদ্রব্য ও পানীয়সমূহ গ্রহনের ফলে সাধারণ মানুষের কিডনি ও এলার্জিজনিত জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শারিরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থসহ মৃত্যুও হচ্ছে।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতে আটককৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় ড্রাগ এ্যাক্ট ১৯৪০ ও বিএসটিআই অধ্যাদেশ ১৯৮৫ মোতাবেক বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানসহ ও প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করার নির্দেশ প্রদান করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান।

এছাড়া আটককৃত মো. আক্তারুজ্জামান (৬৩), মো. মহিউদ্দিন (৪৫), ও মো. কামরুজ্জামান (৩৪)কে এক লক্ষ টাকা জরিমানা, জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং মিজানুর রহামান (২৮)কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, জরিমানা অনাদায়ে আরও ০৪ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন- বিএসটিআই ফিল্ড অফিসার মোঃ খালিদ হোসেন ও ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মো. মহিদ ইসলাম। অভিযান পরিচালনা করেন উপ-অধিনায়ক মেজর সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদ।

এ ধরনের কারখানায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান উপ-অধিনায়ক মেজর সালাহ্ উদ্দিন মাহমুদ।

জেইউ/আরএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।