উন্নয়ন ব্যাহত করার অধিকার কারো নেই : প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশিত: ১০:৩৪ এএম, ১৫ মার্চ ২০১৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরাজমান সমস্যা উত্তরণে তার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করার অধিকার কারো নেই। দেশ যখন সব খাতে বিপুলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে সময়ে জ্বালাও-পোড়াও, বর্বরতা ও মানুষ হত্যার কারণে আমরা কিছু সমস্যার মোকাবিলা করছি।

রোববার সকালে আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন আর হরতাল-অবরোধের কার্যকারিতা নেই। এ কারণে হরতাল ও অবরোধের নামে মানুষ খুন করা হচ্ছে। আমি জানি না, কেন এ নৃশংস কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।

বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ও দায়িত্ব রয়েছে তার দলের। কারণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতার জন্য এ দলের অনেক আত্মত্যাগ রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগই মুক্তিযুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। এজন্য যে আন্তরিকতার সঙ্গে আমরা কাজ করবো, অন্য কোন দল সেভাবে কাজ করবে না। এটাই বাস্তবতা। দেশের জনগণ ইতোমধ্যে তা বুঝে গেছেন।

বাংলাদেশের প্রথম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধ উপগ্রহ’ চালুর কাজ দ্রুততর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপগ্রহ শিগগিরই চালুর কাজ আমাদের শুরু করতে হবে। ‘বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ’ এই মেগা প্রকল্পের কাজ আন্তর্জাতিক টেন্ডার অথবা গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি) পর্যায়ে বাস্তবায়ন হওয়া উচিত। জিটুজি পর্যায়ে হলে সময়ের সাশ্রয় হবে। এক্ষেত্রে কিছু সদস্য দেশের সক্ষমতা রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতেন। এ লক্ষ্যে তিনি স্বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গঠনের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেন। জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার (আইটিইউ) সদস্য পদ লাভ করে। একই বছর তিনি বিসিএসআইআর প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধু দেশে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়নে ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেন।

তিনি আরো বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি। তখনও চারিদিকে ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রেখে যাওয়া অচলাবস্থা। এ অচল অবস্থা কাটিয়ে তুলতে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের আমলে গঠিত হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। দেশের তথ্য প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে একত্রিত করে একক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার প্রযুক্তি বিভেদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কোন স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা রাখেন- আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এছাড়া  এতে বক্তৃতা রাখেন একই বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার।

আরএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।