৪৫ বছর পর স্বীকৃতি পাচ্ছেন ৮০ বীরাঙ্গনা
স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন বীরাঙ্গনা হিসেবে পরিচিত একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে নির্যাতিত নারীরা। প্রথম দফায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত তালিকার প্রায় ৮০ জনকে সরাসরি নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হবে।
বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে অন্য বীরাঙ্গনাদের ভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে গেজেটভুক্ত করা হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের মতো নারী মুক্তিযোদ্ধারাও একই সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বর্তমানে একজন মুক্তিযোদ্ধা মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পান। চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তান-নাতি-নাতনিরা কোটাসুবিধা পান। যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার পরিমাণ আরও বেশি। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মুক্তিযুদ্ধকালে নির্যাতিত নারীর প্রকৃত হিসেব নেই কারও কাছে। ইতোমধ্যে তাঁদের অনেকে মারাও গেছেন। বলা হয়ে থাকে, মুক্তিযুদ্ধকালে দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তবে অপূর্ব শর্মার লেখা বীরাঙ্গনা কথা বইয়ের ভূমিকায় বলা হয়েছে, ‘মুক্তিযুদ্ধে আমাদের দুই লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছেন-এমন তথ্য প্রচলিত থাকলেও নির্যাতিত নারীদের সংখ্যা এর দ্বিগুণ হতে পারে।’
ডা. এম এ হাসান পরিচালিত ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ৬২ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার এবং আরও ১ লাখ ৩১ হাজার হিন্দু নারী স্রেফ গায়েব হয়েছিলেন।
জামুকার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জামুকার ২৫তম সভায় মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নির্যাতিত নারীদের নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে স্বীকৃতির প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়। কারণ, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জামুকার ২৮তম সভায় নারী মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
২৮তম সভায় বলা হয়, এ ধরনের অনেকের নামের তালিকা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের তালিকাভুক্ত এ ধরনের নারী মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য নারী মুক্তিযোদ্ধাদের উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা বিব্রতকর বিষয় হতে পারে। তাই এ বিষয়ে ভিন্ন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে মত দেন জামুকার সদস্যরা।
পরে সিদ্ধান্ত হয়, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত তালিকাটি যেহেতু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে করা হয়েছে, তাই তাঁদের যাচাই-বাছাই ছাড়াই সরাসরি নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হবে। আর অন্যদের ভিন্নভাবে যাচাই-বাছাইয়ের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ জনের তালিকা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের গেজেটভুক্তির কাজ চলছে।
এর বাইরেও অনেকে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করছেন। এ জন্য মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যে ফরম ঠিক করা হয়েছে, সেখানে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য অন্যান্য শ্রেণিভুক্ত আট ধরনের মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় ‘মহিলা মুক্তিযোদ্ধা’ নামটিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিএ/পিআর