সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে র‌্যাব


প্রকাশিত: ০৭:৩০ এএম, ২৬ মার্চ ২০১৫

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার র‌্যাবের একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

জঙ্গিবাদিরাই দেশে অরাজকতা তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। আজকে যারা সন্ত্রাস করছে, ভীতিজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে, বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে মানুষ পুড়িয়ে মারছে তাদের সঙ্গে জঙ্গিবাদের সম্পর্ক থাকা স্বাভাবিক।

আজকে আমাদের দেখতে হবে, ভাবতে হবে কারা দেশের উন্নয়নের পথে বাধা? কারা শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। আজকে সময় এসেছে জঙ্গিবাদ দমনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীন দেশ আমরা পেয়েছি সেদেশকে আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদী দেশে পরিণত হতে দিতে পারি না।

র‌্যাবের ব্যাটালিয়ন বাড়ানো হবে কিনা এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময় ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী র‌্যাবের কাজের পরিধি ও পরিসর বেড়েছে। তবে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাবের পরিধি না বাড়িয়ে বরং লজিস্টিক সাপোর্ট ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক সুবিধা বাড়ানো হবে।

বেনজীর আহমেদ বলেন, অনেক সফলতা ও কিছু ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে র‌্যাব ১১তম বছরে পা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জঙ্গি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, উপকূলীয় দস্যু, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছে র‌্যাব।

একইভাবে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ী, জাল নোট প্রস্তুতকারী ও ভেজালবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানেও উল্লেখযোগ্য সফলতা রয়েছে র‌্যাবের।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনা র‌্যাবের জন্য কলঙ্কিত হলেও বিতর্কিত ওই র‌্যাব সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, র‌্যাব কখনো কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়নি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত অপরাধ বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২১০৪ র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অভিযানে শতাধিক র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন।

র‌্যাবের চালিকা শক্তি দেশের মানুষ উল্লেখ করে র‌্যাবের ডিজি বলেন, র‌্যাব গণমানুষের ভালোবাসা নিয়ে ১১টি বছর পেরিয়ে এসেছে। সন্ত্রাস, ভীতি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে যাবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। সকালে বাহিনীর পতাকা উত্তোলন করেন ডিজি বেনজীর আহমেদ। এরপর শুরু হয় মহাপরিচালকের দরবার।

পরে র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ ১৪ শহীদ সদস্যদের পরিবারকে সংবর্ধনা দেন এবং সাহসিকতার জন্য ১০ র‌্যাব সদস্য ও সেবার জন্য ১০ র‌্যাব সদস্যকে ক্রেষ্ট প্রদান করেন।

জেইউ/বিএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।