উদ্ভাবক মিজানের সঙ্গে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশিত: ০৫:৪৬ পিএম, ৩০ মার্চ ২০১৫

দেশের আনাচে কানাচে যেসব লুকিয়ে থাকা প্রতিভা নিজ আগ্রহেই মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন, যশোরের শার্শা উপজেলার আমতলার গাতিপাড়ার উদ্ভাবক মিজানুর রহমান মিজান (৪৫) তাদেরই একজন। পেশায় মোটর মেকানিক মিজান একের পর এক চমকপ্রদ যন্ত্র উদ্ভাবন করে খবরের শিরোনাম হয়েছেন সম্প্রতি। এবার তার এই উদ্ভাবনের সম্ভাবনাকে তুলে ধরতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

আগামী ২ এপ্রিল এই উদ্ভাবককে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তার মেধা, যোগ্যতা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম শরিফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একসেস টু ইনফরমেশন- এটুআই প্রকল্পের সদস্যরা শার্শায় এসে তার উদ্ভাবিত যন্ত্রগুলো দেখেছেন। এরপরই তাকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

অতি সম্প্রতি মিজান তার উদ্ভাবিত অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রটি যশোর ও খুলনায় বিজ্ঞান প্রযুক্তি মেলায় প্রদর্শন করে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথমস্থান অর্জন করেছেন। তিনি পেয়েছেন ক্রেস্ট ও সন্মাননা পত্র।

কোথাও আগুন লাগলে অগ্নি নির্বাপক এই যন্ত্রটি নিজে থেকই সচল হয়ে আগুন নিভিয়ে দেবে। সেন্সরের মাধ্যমে এটি চালু হয়। আবার কাজ শেষে নিজে থেকেই থেমে যায়।

এ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম বলেন, ‘মোটরসাইকেল ম্যাকানিক মিজানুরের আগুন নেভানো মেশিনটি খুবই অদ্ভুত ও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এ ধরনের আবিষ্কারকে এআইটি প্রযুক্তির আন্ডারে উদ্বুদ্ধ করতে সহযোগিতা করবে।’ 

অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র উদ্ভাবনের পর তার নব্য উদ্ভাবন হলো ফায়ার প্রুফ জ্যাকেট। তার তৈরি ফায়ারপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে ১০/২০ ঘণ্টা আগুনের মধ্যে থাকলেও সেটি পরিহিত কেউ পুড়বে না বলে দাবি করেন মিজান। স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন এবং ঠান্ডা পানি শরীরের সব স্থানে সরবরাহ করবে পোশাকটি। হেলমেট থেকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হবে।

চার স্তরের আবরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে জ্যাকেটের একটিমাত্র হাত। আর তাতে খরচ হয়েছে মাত্র পনেরশ’ টাকা। পুরো জ্যাকেট তৈরি করতে খুব বেশি খরচ হবে না বলে জানান উদ্ভাবক মিজান। জ্যাকেটের আইডিয়া এবং একটি হাতা তৈরি করতে তার সময় লেগেছে এক সপ্তাহ।

অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র, ফায়ারপ্রুফ জ্যাকেট, নিজেই গোল করা ফুটবল, ডিজেল বা পেট্রোল ছাড়া রাইস মিলের হলার, কাঠের তৈরি মোটরসাইকেল, জমিতে সেচ দেওয়া অটো সুইচ মেশিন, জিপগাড়িসহ একের পর এক আবিস্কার করেই চলেছে মিজান। তার উদ্ভাবিত নিজেই গোল করা ফুটবলটি মানুষ বা কারো সাহায্য ছাড়াই গোল করবে। বিশেষ ইশারায় বলটি নিজে নিজেই গোল করবে বলে জানান মিজান।

মাধ্যমিক পাশ না করা মিজান জানান, ছোটবেলা থেকে রাইস মিল মেকানিক বাবার সঙ্গে থেকেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার একের পর এক উদ্ভাবন থাকলেও কোনো প্রদর্শনীতে সুযোগ না পাওযায় আলোর মুখ দেখেননি তিনি। শার্শায় নবাগত ইউএনও শরীফুল আলমের আন্তরিকতা ও সার্বিক সহযোগিতায় তিনি দুটি মেলায় তার উদ্ভাবিত যন্ত্রগুলো প্রদর্শনের সুযোগ পান।

মিজান বলেন, ‘হরতাল অবরোধে মানুষ ও গাড়ি পোড়ানো দেখে আমার খুব খারাপ লাগে। তাদের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকে অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র উদ্ভাবনে সচেষ্ট হই। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবার দোয়া, সহযোগিতা ও আন্তরিকতা কামনা করছি।’

এসআরজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।