কামারুজ্জামানের মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ২৩ জন


প্রকাশিত: ০৮:৩৬ এএম, ০৬ এপ্রিল ২০১৫

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলায় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন ও আসামীপক্ষে মোট ২৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয়।

২০১২ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে এবং গত বছর ৬ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আব্দুর রাজ্জাক খান, জব্দ তালিকার সাক্ষী বাংলা একাডেমীর সহকারী গ্রন্থাগারিক এজাব উদ্দিন মিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের তথ্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা আমেনা খাতুনসহ প্রসিকিউশনের পক্ষে ১৮ জন সাক্ষী তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

অন্য সাক্ষীরা হলেন ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি হামিদুল হক, শেরপুরে কামারুজ্জামানের স্থাপন করা আল-বদর ক্যাম্প ও নির্যাতন কেন্দ্রের দারোয়ান মনোয়ার হোসেন খান মোহন, মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী বীরপ্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুল মান্নান, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ গোলাম মোস্তফা হোসেন তালুকদারের ছোট ভাই মোশাররফ হোসেন তালুকদার, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামানের বড় ভাই ডা. মো. হাসানুজ্জামান, লিয়াকত আলী, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের পুত্র জিয়াউল ইসলাম, এডভোকেট আবুল কাশেম, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সন্তান মো. জালাল উদ্দিন, মুজিবুর রহমান খান পান্নু এবং দবির হোসেন ভূঁইয়া।

এ ছাড়া ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দেন শেরপুরের নলিতাবাড়ি উপজেলার ‘বিধবাপল্লী’ খ্যাত সোহাগপুর গ্রামের তিন নির্যাতিত নারী। আসামিপক্ষ এসব সাক্ষিদের জেরা করেছিল। কামারুজ্জামানের পক্ষে মোট ৫ জন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরা হলেন মো. আরশেদ আলী, আশকর আলী, কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল, বড় ভাই কফিল উদ্দিন এবং আব্দুর রহিম। প্রসিকিউশন তাদের জেরা করেছেন।

ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত সাতটি অভিযোগের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগে হত্যার দায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিল। এর মধ্যে তৃতীয় অভিযোগে শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুরে ১২০ জন পুরুষকে ধরে নিয়ে হত্যার দায়ে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি সর্বসম্মতভাবে আসামি কামারুজ্জামানকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

আপিলের রায়ে বলা হয়, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চের অপর তিনজন বিচারপতি হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

সোমবার আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আনা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।