আইএস থেকে যেভাবে মুক্ত হলেন হেলাল উদ্দিন
জামালপুরের হেলাল উদ্দিন। জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন লিবিয়ায়। ভেবেছিলেন ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে। সে অনুযায়ী কাজও নিয়েছিলেন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি তেলখনিতে। তবে জানতেন না তার ভাগ্যে কী জমা আছে।
কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে করতেই একদিন আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হাতে অপহৃত হন হেলাল উদ্দিন। বন্দি অবস্থায় থাকতে হয় ১৮ দিন। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মাটিতে পৌঁছাতে পেরেছেন তিনি।
আইএস জঙ্গিদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে হেলাল উদ্দিন বাড়িতে ফিরে আসায় খুশি তার পরিবার। হেলাল উদ্দিনকে একনজর দেখতে আর তার মুখ থেকে জঙ্গিদের হাতে অপহরণ কাহিনী শুনতে ভিড় করছেন এলাকাবাসী।
জঙ্গিদের হাত থেকে কীভাবে মুক্ত হলেন সে কাহিনীই শোনালেন হেলাল উদ্দিন। হেলাল উদ্দিন বলেন, জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরা আসতে পারমু এটা কখনো ভাববার পাই নাই। ৬ তারিখে যখন মুখোশধারী জঙ্গিরা আমাদের অপহরণ কইরা গাড়ি দিয়া মরুভূমির মধ্যে নিয়া যায়, তখন ভাবছিলাম গাড়ি থাইকা নামায়া এখনই বুঝি শিরশ্ছেদ দিবো। পরে মরুভূমির মধ্যে একটা বরফ কলে নিয়া আমাদের কয়েকজনকে আটকে রাখে জঙ্গিরা। খাবার হিসেবে সাতুর মতো কী একটা খাবার দিতো, তাও আবার এক বেলা।
তিনি বলেন, জঙ্গিরা বলে, আমরা মুসমান হলে কী হবো সপ্তাহে নামাজ পড়ি একবার। আমরা নাকি ইসলামরে ধ্বংস করতাছি তাই আমাদেরকে অপহরণ করা হইছে ইসলামের শিক্ষা দেওয়া জন্য। জঙ্গিদের হাতে আটকা থাকা অবস্থায় প্রতিটা সময় খালি নিজের কৃতকর্ম আর বৌ, পোলাপানের কথা মনে হইছে।
হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, আর একটা কইরা রাত পার হইলেই মনে হইতো আজ বুঝি মাইরা ফালাবো। ১৮ দিন পর যখন জঙ্গিরা মুক্ত করে দিলো, মনে হইছিল আমি বুঝি পৃথিবীর মধ্যে আরও একবার নতুন কইরা জন্ম নিলাম। এখন পরিবারের কাছে ফিরা আসতে পাইরা অনেক খুশি আর আনন্দ লাগতাছে। আমার মুক্তির জন্য বর্তমান সরকার, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস আর সাংবাদিকদের প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ থাকমু।
বিএ/আরআই