নিরাপত্তার চাদরে রাজধানীসহ সারাদেশ
বাঙালির প্রাণের উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে রাজধানীসহ সারাদেশকে। পহেলা বৈশাখের মূল আকর্ষণ রমনা বটমূলকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রমনা উদ্যানের অভ্যন্তরে ও এর আটটি গেটে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। স্থাপন করা হয়েছে র্যাব-পুলিশের পৃথক কন্ট্রোল রুমও।
এছাড়া ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরায় পুরো রমনা পার্ক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রবেশের সকল পথেই বসানো হয়েছে আর্চওয়ে গেট। বটমূলের সন্নিকটে পুকুরে তল্লাশির জন্য থাকছে নৌবাহিনীর ডুবুরি দলসহ ফায়ার সার্ভিসের আলাদা একটি ইউনিট। আকাশ পথে থাকছে র্যাবের হেলিকপ্টার টহল। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার যেন কোনো কমতি না থাকে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে রমনা বটমূলকে ঘিরে।
রাজধানী ঢাকার বাইরেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরেজিমন দেখা গেছে, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে ভোর থেকেই রমনা বটমূলে আসতে শুরু করেছেন দর্শনার্থীরা। তারা প্রবেশ করছেন আটটি গেট দিয়েই। আর এই আটটি গেটেই বসানো হয়েছে আর্চওয়ে গেট। এছাড়া মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করছে পোশাকধারী পুলিশ।
প্রবেশের সকল পথেই দর্শনার্থীদের বাতাসা ও ফুল দিয়ে বরণ করছে পুলিশ সদস্যরা।
রমনা জোনের সহকারী পুলিশ শিবলী নোমান জানান, বর্ষবরণের মূল অনুষ্ঠান রমনা বটমূল হওয়ায় বেশ কয়েক দিন আগ থেকেই এখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়াহয়েছে।
তিনি জানান, পর্যাপ্তসংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী এখানে নিয়োজিত রয়েছে। মাঠের মধ্যে পর্যবেক্ষণের জন্য সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। পুরো রমনা পার্কজুড়েই সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াত, বোমা ডিসপোজাল ইউনিট, ফায়ারসার্ভিস ও পুকুরে তল্লাশির জন্য নৌবাহিনীর ডুবুরি দলও নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছি। এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক মেজর মাকসুদুল আলম বলেন, পুলিশের মত র্যাবও রমনা বটমূলের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছে। র্যাবের একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টারও।
তিনি বলেন, র্যাবের হেলিকপ্টারও টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তায় নিয়োজিত বোমা ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, সার্বজনীন এই উৎসবকে প্রাণবন্ত ও নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তায় কোনো কমতি রাখা হয়নি। রমনা বটমূল ছাড়াও সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষারকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
তারা বলছেন, কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর হুমকি না থাকলেও আমরা নিরাপত্তার ব্যাপারে সজাগ এবং সেইভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আরও বলেন, রমনা বটমূলের পাশাপাশি পুরো রাজধানী নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হচ্ছে। যে সকল স্থানগুলোতে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান হবে সেই স্থানগুলো থাকবে কড়া নিরাপত্তায়।
এর আগে, রোববার ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তাদের ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানান। পাশাপাশি র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদও বৈশাখের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা জানান।
রমনা বটমূলে আসতে ট্রাফিক বিভাগ থেকেও আগে রোড ডাইভারশনের কথা জানানো হয়েছে। পার্কিং ও যান চলাচলের নির্দিষ্ট রাস্তা ছাড়া অন্যপথে চলাচল করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
বিএ/আরআইপি