জনবল বাড়ছে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে
এমপিও নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীতিমালা সংশোধন করা হলে দেশের এমপিওভুক্ত ২৬ হাজার ৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বাড়বে শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রতিটি স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে যোগ হবে শিক্ষকের নতুন পদ। এমএলএসএসের একটি করে পদ সৃষ্টি হবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
মাউশি সূত্র জানায়, দেশে এখন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৮টি। এতে প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার ৬৪৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। আর কর্মচারী রয়েছেন প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৭৪ জন। সব মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় চার লাখ ৬৬ হাজার। নীতিমালা সংশোধিত হলে এর সঙ্গে যুক্ত হবেন প্রায় ৫১ হাজার ৫৩৪ জন শিক্ষক এবং ২৩ হাজার ৭০৫ জন এমএলএসএস।
জানা যায়, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি ও সামাজিক বিজ্ঞানে শিক্ষকের পদ তিনটি হলে যোগ হবেন ছয় হাজার ৬৫২ জন শিক্ষক। মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও চার বিষয়ে চারজন শিক্ষক হলে যোগ হবেন ১২ হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষক। মাদ্রাসায় একইভাবে এমপিওভুক্তির সুযোগ পাবেন সাত হাজার ৬০৬ জন শিক্ষক। এ ছাড়া সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের ২৬ হাজার ৬৮ জন শিক্ষক এমপিওভুক্তির সুযোগ পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত অক্টোবরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থী এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর আলোকেই এমপিও নীতিমালা সংশোধন করতে গত ২১ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাউশিকে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ২৫ জানুয়ারি মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামানকে আহ্বায়ক এবং উপপরিচালক মো. মেজবাহ উদ্দিন সরকার, আবুল হোসেন, এ কে এম মোস্তফা কামাল ও সহকারী পরিচালক কাজী নুরে আলম সিদ্দিকীকে সদস্য করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এরই মধ্যে তাদের প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। আমরা প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। এখন তারাই চূড়ান্ত করবে। বর্তমানে এমপিও খাতে সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিলে আরো ৪০০ কোটি টাকা বেশি লাগবে। মানসম্মত শিক্ষা দিতে গেলে টাকা-পয়সা একটু বেশি লাগবেই।
মাউশি সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ) শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ প্রদান এবং জনবল কাঠামো সম্পর্কিত নির্দেশিকা নামের নীতিমালা সংশোধন করা হচ্ছে। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রণীত এই নীতিমালা একবার সংশোধন করা হয় ২০১৩ সালের মার্চে। আবারও এই নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
২০১৩ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি ও সামাজিক বিজ্ঞান- এ তিন বিষয় মিলিয়ে শিক্ষকের পদ একটি। এখন তিনটি বিষয়ের জন্যই তিনজন শিক্ষকের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বিদ্যালয়গুলোতে এমএলএসএসও একজন থেকে বাড়িয়ে দুজন করা হবে। বিদ্যমান নীতিমালায় মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা- এই চার বিষয়ের জন্য তিনজন শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা হয়। এখন চার বিষয়ে চারজন শিক্ষক রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় একজন করে এমএলএসএস ছিল, তা বাড়িয়ে দুজন করা হবে।
এএইচ/এমএস