রানা প্লাজা ধস : এখনো নিখোঁজ ১৫৯ শ্রমিক
রানা প্লাজা ধসের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ১৫৯ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদন দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এ চতুর্থ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম।
দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘রানা প্লাজা ট্রাজেডির দুই বছর পূর্তি: সতর্কতার জায়গা ও পূর্ণগঠন প্রক্রিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভা করে সংগঠনটি। ১৪টি সংগঠনের সহযোগিতায় সিডিপি এবারের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রস্ততি করেছে।
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ১৫৯ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। গত এক বছরেও নিখোঁজ পরিবারদের দেয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই বাছাইয়ের কাজে কোনো অগ্রগতি হয়নি। আর নিখোঁজ হবার কারণে এসব পরিবার তেমন কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না।
অনুষ্ঠানে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার দুই বছর পর ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসন, তাদের বর্তমান অবস্থা, পোশাক শিল্পে গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম। এ সময় সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য, নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মিখাইল সিপার, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শিদী, শ্রমিক নেতা সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রানা প্লাজার ঘটনায় নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে ৩৬৫ নিখোঁজ শ্রমিকের মধ্যে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে ২০৬ জনের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। তারা কিছু সহায়তা পেলেও বাকী ১৫৯ শ্রমিকের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে সব ধরনের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসব শ্রমিকদের পরিবার।
এছাড়া ওই ঘটনায় নিহত শ্রমিকরা প্রতিশ্রূত ক্ষতিপূরণের ৭০ শতাংশ পেলেও আহত, পঙ্গু ও চাকরি হারানো শ্রমিকরা রয়েছেন কষ্টকর জীবনে। ওই সময়ের অধিকাংশ শ্রমিকের জীবন যাত্রার মান নিম্নমানের হয়েছে। অনেকে এখনো কাজ করার অনুপযোগী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই সময়ে আহত শ্রমিকরা তাৎক্ষণিক বিভিন্ন সংগঠনের সহায়তায় চিকিৎসা পেয়েছেন। পরবর্তীতে ঢাকা ও সাভারের আশপাশের শ্রমিকরা কিছু সহায়তা পেলেও বাহিরের জেলাগুলোর শ্রমিকরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বিভিন্ন সংস্থা থেকে ৫১৩ জন শিশুকে পুর্নবাসন করা হয়েছে। আর বিলস থেকে ২৫ জন এতিম শিশুকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর বাহিরে তেমন কোনো সুবিধা পায়নি অন্যান্য শিশুরা।
এসআই/এসএ/একে/আরআই