হিজড়াদের সংসদে দেখতে চান তারানা হালিম
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তারানা হালিম বলেছেন, কেবল ভোটের জন্য নয়, এবার হিজড়াদের জন্য কিছু করতে চাই। সংসদে তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন তৈরি করতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে হিজড়ারা আমাদের পাশে থাকে।
বুধবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত হিজড়া সম্প্রদায়ের অধিকার বিষয়ক এক সেমিনারে একথা বলেন তিনি।
তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে হিজড়া সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষায় পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি এ প্রসঙ্গে দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে ‘বৈষম্য বিলোপ আইন- ২০১৪’ বিলটি শিগগিরই চূড়ান্ত করে সংসদে উত্থাপন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
একই অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, রাষ্ট্রে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হিজড়াদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালে হিজড়াদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, হিজড়ারা এই সমাজেরই অংশ। এদেশের নাগরিক হিসেবে তাদের মৈালিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই আর একজন হিজড়াও বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না। রাষ্ট্র তাদের দায়িত্ব নেবে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও হিজড়াদের বিনামূল্যে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তাদের বাসস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। রাষ্ট্র তাদের জন্য এ সুযোগগুলো সৃষ্টি করবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানের হত্যাকারীদের হাতেনাতে ধরিয়ে দিয়ে হিজড়া সম্প্রদায়ের লাবণ্য ও নদী যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তাতে শুধু হিজড়া সম্প্রদায় নয় সমগ্র মানব সমাজই গর্বিত।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান হিজড়াদের প্রতি রাষ্ট্রকে করুণার পরিবর্তে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের কাছে দয়া দাক্ষিণ্য নাগরিকদের চাহিদা নয়। হিজড়া সমাজ অধিকার ও সম্মান নিয়ে বাঁচতে চায়।
এছাড়া হিজড়া সম্প্রদায়ের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে উত্তরাধিকার আইনকে হালনাগাদ করার সুপারিশ করেন তিনি।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে ‘তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে হিজড়া সমাজের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রূপন কান্তি শীল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব মো. আমজাদ হোসেন খান, কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ান, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারপারসন আনিসুল ইসলাম হিরু প্রমুখ।
আরএস/আরআই