দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী লাবণ্য ও নদী হিজড়াকে সংবর্ধনা
ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানের হত্যাকারীদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী `লাবণ্য হিজড়া` ও `নদী হিজড়া` কে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বুধবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত হিজড়া সম্প্রদায়ের অধিকার বিষয়ক এক সেমিনারে তাদের এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি যৌথভাবে ‘তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে হিজড়া সমাজের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত তাদের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন।
সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত হিজড়াদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ওয়াশিকুরের হত্যাকারিদের ধরিয়ে দিয়ে তারা কেবল হিজড়া সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেননি, গোটা মানবজাতির জন্যই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আপনারা মানুষ এবং এই রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই আপনারা সবার মতো মাথা উঁচু করেই এ সমাজে বসবাস করবেন।
তিনি বলেন, হিজড়ারা তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেও তারা সমাজে ও পরিবারে নানাভাবে নিগৃহীত। তারা পারিবারিক জীবনে যেমন কোন গুরুত্ব পায়না, তেমনি সমাজেও তাদের নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। কিন্তু এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে তারা কেবল সাহসিকতার পরিচয়ই দেননি, মানবিকতারও পরিচয় দিয়েছেন।
সেমিনারে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- এডভোকেট তারানা হালিম, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রূপন কান্তি শীল, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ সোমবার রাজধানীর বেগুনবাড়ি এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত মুক্তমনা লেখক ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের পেছন থেকে জনতা ও পুলিশ ধাওয়া করলে পথে লাবণ্য হিজড়া ও তার সঙ্গী নদী হিজড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আরএস/আরআই