‘এমডিজির মতো এসডিজি বাস্তবায়নেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’


প্রকাশিত: ০৬:২৯ এএম, ১৩ মে ২০১৭

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনের মতো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নেও বাংলাদেশ সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে দেশটি।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনে অবস্থিত বিশ্বসেরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট কনফারেন্সে এমনটাই বলেন বক্তারা।

জাতিসংঘ ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারের প্রতিনিধি, হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতি-নির্ধারক, থিংক ট্যাংক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থ-বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ ব্যবসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সফল বাংলাদেশিরা।

আঙ্কটাড্ নিউইয়র্কের প্রধান সান্তাল রাইন কারপেনটিয়ার, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সাবেক উপ-প্রধান ডেভিড মিয়েলি এবং ইউএনসিডিএফ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুথ গুডউইন গ্রয়েন তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে এবং উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ এসডিজির লক্ষ্যসমূহ অর্জনে ভূমিকা রাখছে।

এছাড়া রুথ গুডউইন গ্রয়েন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের প্রশংসা করে বলেন, ‘ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল ইকোসিস্টেম বাস্তবায়নে এটুআই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে, যা এজডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অপরিহার্য।

বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ও বোস্টন ইনস্টিটিউট ফর ডেভলপমেন্ট ইকোনমিক্সের প্রেসিডেন্ট গুস্তাব পাপানেক বলেন, ‘অর্থনৈতিক মন্দার কারণে যেখানে বিশ্বের অনেক দেশের প্রবৃদ্ধি কমেছে সেখানে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে ৬ ভাগের উপরে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে; যা বর্তমানে ৭ ভাগের উপরে। ৮০ শতাংশ থেকে দারিদ্র্য কমে বর্তমানে ৩০ শতাংশের নিচে নেমেছে। রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, যা বিশ্বের অনেক দেশের পক্ষেই সম্ভব হয়নি।’

বোস্টনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (আইএসডিআই) এবং হার্ভার্ড টিএইচ চান স্কুল অব পাবলিক হেলথ্ ও হার্ভার্ড ল স্কুলের আওতাধীন ‘সাসটেইনিবিলিটি অ্যান্ড হেলথ্ ইনিশিয়েটিভ ফর নেটপজিটিভ এন্টারপ্রাইজ (সাইন ইনিশিয়েটিভ)’ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা দেয় বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ।

বৃহস্পতিবার হার্ভার্ড ল স্কুলের মিলস্টেইন কনফারেন্স সেন্টারে শুরু হওয়া কনফারেন্সটির মূল সেমিনার শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। মূল সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাচিভিং এসডিজি-সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল থ্রু এন্ট্রাপ্রিনিউরশিপ, কর্মাস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’।

ড. মশিউর রহমান উপস্থিত ব্যবসায়িক প্রতিনিধিসহ বিনিয়োগকারীদের এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিনিয়োগকে সহজ করার ক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সামর্থ্য বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে।’

দেশের উদ্যোক্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজস্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়েই আমাদের উদ্যোক্তারা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’

উন্নয়ন অর্থায়নে ঘাটতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে এসডিজি বাস্তবায়নের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সরকার পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেয়া মাইক্রো সেভিংস মডেল বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমরা মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতিশীল করতে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি। বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান তৈরি করার শেষ ধাপে রয়েছে। আমরা আশা করি বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।’

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশের এসডিজি বাস্তবায়নে এই সেমিনার অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়াও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা দূরীকরণে জাতিসংঘসহ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে জাতিসংঘের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের গ্লোবাল এন্ট্রাপ্রিনিউরশিপ প্রোগামের পরিচালক থমাস ই. লার্সটেন বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এন্ট্রাপ্রিনিউরশিপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে, যা উভয় দেশকেই সমানভাবে উপকৃত করছে।’

এমআইটি-লিগাটাম সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রিনিউরশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং গ্রামীণ ফোনের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইকবাল কাদির বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। টেলিকমিউনিকেশন খাতে প্রথম বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে ১৯৯৬ সালের সরকারের সময়, যা এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত।’

তিনি বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার ব্যবস্থা ‘বিকাশ’, প্রাইভেট ট্যাক্সি ‘উবার’সহ উদ্যোক্তা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

জেপি/এনএফ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :