‘৫৭ ধারা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিকাশের প্রধান অন্তরায়’


প্রকাশিত: ১২:১৯ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৭

‘তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এই খাতের গ্রাহকদের নিরাপত্তায় খুব একটা কাজে না আসলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও গণমাধ্যমের ব্যক্তি এবং মুক্তমনা মানুষের হয়রানির কাজে এ আইনের ব্যবহার বেশ কার্যকর।’ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ কথা উল্লেখ করেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি জিএসএম’র এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশ এ খাতে পিছিয়ে রয়েছে। যদিও তারা এর কারণ হিসেবে বাংলা অ্যাপসের অপর্যাপ্তকেই দায়ি করছেন।

সরকার ২০০৬ সালে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই আইনটি করে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এ আইনটি আরও সংশোধন করা হয়। যদিও এ আইনের কোথাও এ খাতের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করার কোনো আইন বা ধারা হয়নি। বর্তমানে এ আইনে যতটা না প্রযুক্তি নিরাপত্তায় ব্যবহার হচ্ছে তার চেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ভিন্ন উদ্দেশ্যে।

তিনি বলেন, এ আইনে বলা হয়েছে যেকোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স বিন্যাসে এমন কিছু সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনার সৃষ্টি হয় রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয় তাহলে উপরোক্ত কাজ হবে একটি অপরাধ।

এ অপরাধের জন্য অনধিক ১৪ বছর ও অনূ্ন্য ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে এবং মামলাটি অজামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধের জন্য আমাদের টর্ট আইনসহ অন্যান্য আইন পূর্বেই রয়েছে। তবে সেসব আইন জামিনযোগ্য ও শাস্তির পরিমাণ কম রয়েছে।

গতকাল আইনমন্ত্রী বলেছেন, ৫৭ ধারা নাও থাকতে পারে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, তবে নতুন যে ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে তাতে আমরা মনে করি, অর্থনীতির ভাষায় ‘পুরাতন মদ নতুন বোতলে ঢালা ছাড়া আর কিছুই নয়’। তাই মুক্ত মনে প্রযুক্তি ব্যবহারে এবং গ্রাহকদের স্বার্থে আইনটি করা উচিত।

এএস/এমআরএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :