যুক্তরাজ্যে কয়েকশ বাংলাদেশি অভিবাসীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
যুক্তরাজ্যে এশিয়ান অভিবাসীদের জন্য নিয়মকানুনের খাঁড়া নামছে গত কয়েক বছর ধরেই। তারই মাঝে কয়েক শত বাংলাদেশি অভিবাসীর বিরুদ্ধে উঠেছে প্রতারণার অভিযোগ। বলা হচ্ছে ব্রিটেনের ইতিহাসে এটি হতে যাচ্ছে অন্যতম বৃহত্তম সংগঠিত সুবিধাভোগী অর্থ প্রতারণার ঘটনা।
ইতালি থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি অভিবাসীরা লন্ডনে একদিনের জন্য এসে যোগাড় করেছে জাতীয় ইন্স্যুরেন্স নম্বর। তারপর সেটা দেখিয়ে ভুয়া পে স্লিপ বানিয়ে তারা স্থানীয় কাউন্সিলগুলো থেকে তুলেছে আবাসন সুবিধার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এই অর্থের পরিমাণ সপ্তাহে ১৫৬ পাউন্ড (১৮ হাজার ৭৫৪ টাকা)।
সম্প্রতি তদন্ত শেষে ব্রিটেনের পেনশন অ্যান্ড ওয়ার্ক বিভাগ গত তিন বছর ধরে প্রতারণার মাধ্যমে এই অর্থ তোলার অভিযোগ তুলেছে ৪০০ এরও বেশি বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে। বলা হয়েছে, তারা একদিনের জন্য কাউন্সিলের প্রশ্নোত্তরের মুখোমুখি হতে লন্ডনে আসে এবং এই টাকা তুলে নিয়ে যায়।
ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি মেইল সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এভাবে একেকজন এরইমধ্যে গড়ে ৯ লাখ পাউন্ড করে তুলে ফেলেছে। আর তাদের এই জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণায় সাহায্য করেছে জবসেন্টারের মতো কিছু দাতব্য সংস্থা। এ ধরণের প্রতারণায় সাহায্যের অভিযোগে আসমা খানম (৪৬) নামে একজনকে আদালতের মুখোমুখিও করা হয়েছে। আরো ১২ জনকে আটক করা হয়েছে একই অভিযোগে।
ইতালি থেকে ওইসব অভিবাসী একদিনের জন্য ফিরতি টিকিট কেটেই লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে আসেন। এরপর তারা জবসেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জাতীয় ইন্স্যুরেন্স বিল পরিশোধের ভুয়া কাগজপত্র জোগাড় করেন। তারপর শুধু ব্রিটেনে তাদের অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে একটা ভুয়া ঠিকানা লাগে। এভাবে গত তিন বছরে ভুয়া দলিলপত্র বানিয়ে কোটি কোটি পাউন্ড কামিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা।
গত বছর লন্ডনের বাউ এলাকার একটি ফ্ল্যাটই ৪০০ জন ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করায় সন্দেহ জাগে পেনশন অ্যান্ড ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্টের। তারা সেখানে অভিযান চালালে প্রতারণার বিষয়টি নজরে আসতে থাকে।
এরপর মেট্রপলিটন পুলিশ, পূর্ব লন্ডনের রেডব্রিজ কাউন্সিল এবং সরকারের ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন বিভাগের তদন্তের এক পর্যায়ে ইলফোর্ড ভিত্তিক একটি দাতব্য সংস্থার অফিসে অভিযান চালিয়ে এর ট্রাস্টি আসমা খানমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সংস্থাটি বাংলাদেশ এবং কেনিয়ার মতো বিভিন্ন দেশে বাসস্থান, খাদ্য ও শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে অনুদান দিয়ে আসছিল।
আসমা খানমের সঙ্গে আটক হাবিবুর রহমান নামের আরেকজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এছাড়াও আরো আটটি অভিযোগে অভিযুক্ত এই দু’জনকে এ সপ্তাহের কোনো একদিন আদালতে হাজির করা হবে।
ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন বিভাগের এক মুখপাত্র ডেইলি মেইল-কে সোমবার সকালে বলেছেন, ‘আমাদের অনুসন্ধান টিম বিশ্বের যে কোনো জায়গায় থাকা প্রতারকদের ধরে এনে আদালতের হাজির করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত।’
তিনি বলেন, ‘যারা এভাবে আইন লঙ্ঘন করেছে তাদেরকে ধরতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই ধরনের সুবিধাদি (হাউজিং বেনিফিট) যারা পাওয়ার অধিকার রাখে শুধু তারাই পাবেন।’
ওই মুখপাত্র আরো জানান, আদালতের অন্যান্য শাস্তির পাশাপাশি প্রতারকদেরকে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তারা আজীবনের জন্য অপরাধীর তালিকাভুক্ত হবে।
প্রতারণা করে অর্থ তোলা সবাইকেই পর্যায়ক্রমে আগামী সপ্তাহগুলোতে ধরা হবে বলেও জানিয়েছেন ওই মুখপাত্র।
এসআরজে