মানবপাচার রোধে আন্তঃদেশীয় পুলিশি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে
বিশ্বে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে মানবপাচারের মতো অপরাধ। তবে একা কোনো দেশের পক্ষে এ অপরাধ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। আন্তঃদেশীয় পুলিশি সহযোগিতা ও তথ্যের আদান-প্রদান থাকলে দ্রুত এ অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব বলে একমত পোষণ করেছেন বিভিন্ন দেশের ৩৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের আমারি হোটেলে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ক আন্তঃদেশীয় পুলিশি সহযোগিতা জোরদারকরণ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তারা এ মত দেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, মানবপাচার বন্ধে বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে একটি দেশের পক্ষে পাচারকারীদের এ বিশাল চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতা বৃদ্ধি করে একত্রে কাজ করতে হবে। ৯টি দেশ ইতিমধ্যে একসঙ্গে কাজ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে।
এছাড়াও এ অপরাধ বন্ধে পুলিশকে বিশেষায়িত করে তদন্ত সক্ষম এবং সমন্বিত আইনি পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক (আইজি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, এ অপরাধ দমনে ভুক্তভোগী দেশসমুহের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান বৃদ্ধি করে আন্তঃদেশীয় পুলিশি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি যৌথভাবে কাজ করলে দ্রুত ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
এ সময় উপস্থিত ইউনাইটেড ন্যাশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) কান্ট্রি ডিরেক্টর পলিন টিমেসিস। মানবপাচারকে চরম ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাচারের শিকার মানুষদের জন্য ইউএনডিপির আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা তদন্তে ইউএনডিপি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মতো বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মোখলেসুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের প্রতিনিধি ক্রিস্টোফার উডস।
বাংলাদেশ পুলিশ, অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ এবং ইউএনডিপির পুলিশ রিফর্ম প্রোগাম-এর সহযোগিতায় দুই দিনব্যপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেপাল, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড থেকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান সম্পর্কিত তদন্তে অভিজ্ঞ ৩৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুলিশ রিফর্ম প্রোগামের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
এ সময় মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান, মুক্তিপণ ও অপহরণ এবং এ সম্পর্কিত যেকোনো অপরাধের তথ্য জানাতে নিকটস্থ থানা, সিআইডি অথবা ঢাকায় যোগাযোগের অনুরোধ করেন বক্তারা।
এআর/বিএ/এমএস