সংসদে ভারতের লোকসভা ও প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন


প্রকাশিত: ০২:২৯ পিএম, ০২ জুন ২০১৫

ভারতের সংসদে স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল পাস হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে সেদেশের লোকসভা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এ চুক্তিটি হয়েছে বলে দাবি করে এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ দেন এমপিরা।
 
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ভারতের লোকসভায় স্থলসীমান্ত বিল পাস এবং সে দেশের রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়া ও ভারতীয়দের ধন্যবাদ জানাতে আনিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এমপিরা এ অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ এর আওতায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করলে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা এটির ওপর আলোচনায় অংশ নেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ভারতবর্ষের মতো এতো বড় দেশ প্রতিবেশি হিসেবে পাওয়ায় আমরা গর্বিত। মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যে সংবিধান দিয়েছিলেন, সেই সংবিধানে পররাষ্ট্রনীতি ছিলো কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হবে না। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধান সংশোধন করা হয়। এরপর প্রতিবেশির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন ও আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিলটির অনুমোদন হয়।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। কিন্তু বিএনপি যে দেশের দল, সেই দেশের যে সরকারের প্রচেষ্টায় চুক্তি সম্পাদন হয়েছে, সেই সরকারকে অভিনন্দন জানাননি।

তিনি বলেন, বিএনপিই এখন বলছে তারা ভারত-বিরোধী নয়, কোনোদিন ছিলোও না। তারা ভারত বিরোধী ছিলো কি? ছিলো না, এটা কে জানতে চেয়েছে। তাদের কথা শুনে একটা প্রবাদ মনে পরে ‘ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না’। মতিয়া চৌধুরী বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিসহ যেসব বড় বড় অর্জন এসেছে এর কোনোটিতেই তৃতীয় পক্ষের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়নি। শেখ হাসিনার একার প্রচেষ্টায় হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুটনৈতিক সাফল্যের কারণেই ভারতের পার্লামেন্টে দীর্ঘ ৬২ বছর পর সীমান্ত চুক্তি বিল পাস হয়েছে। তিনি বলেন, এ খবরে সমগ্র দেশবাসী খুশি হলেও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া খুশি হতে পারেননি। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেও নিজের দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাননি। তিনি রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি।

নাসিম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্নতাবাদিদের ঘাটি করেছিল। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশ সফরে আসলে তার সঙ্গে দেখা করেননি খালেদা জিয়া। হরতাল ডেকে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন। আর এখন ভোল পাল্টে ভারতের বন্ধু বলে দাবি করছেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে জাতীয় সংসদে যে আলোচনা হচ্ছে তা ভারতের লোকসভায় প্রেরণ করা জরুরি। তিনি বলেন, ৬ জুন নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসবেন। তার এ সফরে দু’দেশের মধ্যে চলাচলের ক্ষেত্রে যে বাধা রয়েছে সেগুলো দূরকরণ প্রয়োজন। বিশেষ করে ভিসা সহজীকরণ অত্যন্ত জরুরি। স্থলসীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্কের বিরাট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নরেন্দ্র মোদির সফরে তিস্তা চুক্তি সম্পাদন না হলেও সম্ভাবনা বৃদ্ধি হবে। কেবল মাত্র তিস্তা চুক্তি নয়, আরো যেসব অভিন্ন নদী নিয়ে সমস্যা রয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে সুরাহা হবে।

ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলে, শেখ হাসিনা আছেন বলেই এ চুক্তি সম্পাদন হয়েছে। সীমান্ত চুক্তি অনুমোদনের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্কের বিরাট অগ্রগতি হয়েছে। অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।

এইচএস/বিএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।