চীনের ৬ জনসহ গ্রেফতার ৯

অনলাইন জুয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শুরুতেই দেন তিনগুণ লাভ, পরে নিঃস্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ১৪ মে ২০২৬
ডিবির অভিযানে চীনের ৬ নাগরিকসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে/ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের সঙ্গে জড়িত চীনের ৬ নাগরিকসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের শুরুতেই দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ লাভ দিতেন। পরে একটি পর্যায়ে নিঃস্ব করে ছাড়তেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

গ্রেফতার হওয়া চীনা নাগরিকরা হলেন—এম এ (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯) ও জেমস ঝু (৪৩)। গ্রেফতার অন্যরা হলেন—মো. কাউসার হোসেন (২৪), মো. আব্দুল কারিম (২৮) ও রোকন উদ্দিন (৪০)।

jagonews24সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম/ছবি: সংগৃহীত

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ১ মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। অনলাইন জুয়ার বিষয়টি মনিটরিং করতে গিয়ে আমাদের সাইবারের যে টিম আছে সেই টিম রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ছয় চীনা সদস্যসহ নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের নিয়মিত সাইবার মনিটরিংকালে ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ/নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত হয়। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। পরে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউসার, করিম ও রোকনকে এবং তুরাগ থানাধীন রূপায়ন হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।

অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত অনেক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনটি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, একটি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, একটি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট-এনআইডি এবং একটি টয়োটা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চক্রটি প্রথমে প্রলোভন দেখিয়ে কিছু লাভ দেবে। পরবর্তীতে দেখবেন যে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, আমরা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখেছি, নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকাটা ঢুকতেছে। আর তাৎক্ষণিকভাবে এই টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। যেটা আমাদের জন্য ক্ষতিকর।

jagonews24গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন সরঞ্জাম/ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সিম বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সময় কম শিক্ষিত মানুষ সিম কিনতে গেলে বারবার ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয় সিম বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এগুলো ক্রেতা বুঝতেও পারে না। দেখা যায় তাদেরকে বলা হয়—ফিঙ্গার হয়নি, আবার দেন। এভাবে তারা একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করে এসব চক্রের কাছে বিক্রি করে। বিভিন্ন সময় এমন চক্রের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অবৈধ এসব কাজের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এর আগেও চীনা নাগরিকদের এমন প্রতারণার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতারণার জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রযুক্তির দিক দিয়ে চাইনিজরা অনেক উন্নত, এটা আপনারা জানেন। ওরা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের প্রলুব্ধ করছে। আর দ্বিতীয় আরেকটা জিনিস হতে পারে যে, আমাদের এখান থেকে প্রতারণার এই টাকাটা বিভিন্ন ওয়েতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রান্সফার হয়তো একটু সহজ হয়ে গেছে।

কেআর/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।