অর্থমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমালোচনায় সুরঞ্জিত
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের যেসব মন্ত্রণালয় বরাদ্দের চেয়েও বেশি ব্যয় করেছে এবং কয়েকটি মন্ত্রণালয় বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে পারেনি তাদের সমালোচনা করেন তিনি। এছাড়া চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট প্রস্তাব নিয়ম অনুযায়ী সংসদে উত্থাপন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুরঞ্জিত।
মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি। এসময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকলেও অর্থমন্ত্রী ছিলেন না। তার পক্ষে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান।
চলমান প্রকল্পের জন্য একটি মন্ত্রণালয় আরো বেশি টাকা চাইলেও প্রকল্পের নাম উল্লেখ না করায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আমাদের কী মনে করছেন এ পার্লামেন্টে? হোয়াট ইজ থিং? তারপর কী লিখছেন দু`টি চলমান প্রকল্প। কোথাকার প্রকল্প? কী নাম তাদের? বাড়ি কোথায়? কোথা থেকে আইছে? আকাশ না বাতাস? দয়া কইরা বলেন। না বলবেন না।
আরেকটি মন্ত্রণালয় লিখেছে উন্নয়ন সহায়তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ প্রয়োজন। কিন্তু কী প্রয়োজন তা উল্লেখ না করায় তিনি বলেন, হোয়াট ইজ দ্য বিশেষ? অনার এবল মিনিস্টার? কাইন্ডলি এক্সপ্লেইন ইট। দে আর দি হানড্রেড মেম্বারস। দে আর পাবলিক রিপ্রেজেন্টিটিভ। পরিকল্পনাতে যদি এটা হয়? পরিকল্পনাতে অবশ্যই টাকা যাবে। যদি আমাদের সামর্থ্য থাকে পরিকল্পনায় আমরা আরো চার ডাবল টাকা দিতে চাই। পরিকল্পনায় টাকা দেবো না তো দেবো কোথায়? কিন্তু আপনি সম্পূরক বাজেট করে নেবেন আমাকে বলবেন না? পার্লামেন্টকে আপনি আন্ডারগ্রাউন্ড করবেন। পার্লামেন্টকে আপনি বাইপাস করবেন।
তিনি বলেন, ৩২টি মন্ত্রণালয় ২৩ হাজার ৫০ কোটি টাকা খরচই করতে পারে নাই। এ সৌভাগ্যবান মন্ত্রীরা কারা? এক টাকাও খরচ করতে পারেন নাই। হাতই দিতে পারেন নাই। হাতই যদি দিতে না পারেন একা প্রধানমন্ত্রী কী করবেন? সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে আপনি আমার ভোট নিবেন তো? এইটা তো এই পার্লামেন্টে ভোট ছাড়া পাস হবে না? আমি কিসে ভোট দিব? ভোট দিতে গেলে আপনাকে বলতে হবে এই এই মন্ত্রী, এই এই মন্ত্রণালয় এই টাকাটা খরচা করতে পারে নাই। কেন পারে নাই, এই কথাটাও আপনাকে বলতে হবে। এই কথাটাই আপনার আর্টিক্যাল ৯১-এ বলেছে। যারা বেশি খরচা করেছে আমি তাদের সম্বন্ধে পরে আসছি। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে ওয়ান হান্ডের্ড ইয়ার হিস্ট্রি শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ২২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতি ভবনের ইতিহাস রাখতে হবে ভালো কথা। রাখেন। এইটা যে একেবারে সাপ্লিমেন্টারি বাজেট কইরে করতে হবে। হোয়াট ইজ দ্য আর্জেন্সি? এইটা তো সাপ্লিমেন্টারি বাজেট হবে পৃথিবীর কোথাও নাই।
প্রবীন এ সংসদ সদস্য বলেন, সাপ্লিমেন্টারি বাজেট রাখা হয় এ কারণে যে আমার একটা প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গেছে, আমার কিছু টাকা প্রয়োজন আমি খরচা করবো ওই সময়। কিন্তু যেটার আর্জেন্সি নাই, যেটা কালকেও করা যেতে পারে। এইবারের বাজেটে করেন কোনো অসুবিধা তো নাই। এই কুদরতি কারবার দিয়ে তো চলবে না। পরিকল্পনা বিভাগ। পরিকল্পনা বিভাগকে আমার অনেক টাকা দিতে হয়েছে। ব্যাখ্যামূলক স্মরক লেখছেন- একটি নতুন প্রকল্প বৃদ্ধি পাওয়ায়, দুটি প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ও উন্নয়ন সহযোগিতা খাতে এই অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন। এটার কোনো মানে হইলো? একটি শব্দেরও কোনো অর্থ নেই।
সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ভোট করতে গেলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রীকে অবশ্যই দে উইল মেক টু অ্যাকাউন্টিবিলিটি অব দিজ পার্লামেন্ট। কারণ অ্যাকাউন্টিবিলিটি অব দ্য ক্যাবিনেট অ্যান্ড পার্লামেন্ট ইজ কালেকটিভ। খালি প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দিলে সব হবে না। সুতরাং আপনি কে? কেন? কতোটাকা খরচা করছেন? কীভাবে করছেন?
প্রবীন এই সংসদ সদস্য আরো বলেন, আর যদি আপনি মনেই করেন যা খুশি লেইখা নিয়া যাও আর কাউরে কিছু বলার দরকার নাই তাহলে দয়া কইরা এই সম্পূরক বাজেট বই ছাপানোর দরকার নাই।
তিনি বলেন, টাকা যাক, আমাদের আরো বেশি টাকা দিতে কোনো বাধা নাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কী? অবসর ভাতা। অবসর ভাতার সম্পূরক বাজেট লাগে? আপনি জানেন না কতো কর্মচারী আগামী বছর অবসর যাবে? তারে কতোটাকা দিতে হবে? এটা তো মেইন বাজেটেই থাকে। আর কিসের জন্য? আনুষাঙ্গিক ভাতাদি। ভাতা, আপনি জানেন না? এটা তো মেইন বাজেটেই থাকে। আর কী? মেরামত। থানা মেরামত করতে হয়, গাড়ি মেরামত করতে হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়ি মেরামত কেন? আমরা তো নতুন গাড়ি কিনে দিতে চাই। আমরা খুশি হইতাম যদি দেখতাম আজকে ১০ হাজার নতুন পুলিশ নিয়োগ করার জন্য আমার আরো আট হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। অবশ্যই এই পার্লামেন্ট অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সঙ্গে আপনাকে এই টাকা দিতো। এটাই তো আমরা চাই। আমরা চাই ইফিশিয়েন পুলিশ। ইফিশিয়েন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তারা এ যাবৎ যা করতে তাতে আমরা খুশি। আরো বেশি বাজেট বরাদ্দ দিতে চাই। বলতে হবে যে ওই কারণে বাড়ছে।
তিনি বলেন, এক মন্ত্রীকে বললাম। মন্ত্রী বললেন, আগেও এমন লেখা ছিল। আগে তো আমাদের বাবারা জুতা পরতেন না তাহলে কি আমরা জুতা পরা বাদ দিবো? খালি গায়ে চলতো আমরা কি খালি গায়ে চলবো? এই যে নতুন জিনিসগুলো উল্লেখ করলে ভালো হয়। টাকা যে বাড়াইছেন এর সমালোচনা করছি না। কোথায় বাড়াইছেন? কেন বাড়াইছেন? কার জন্য বাড়াইছেন? সেটা উল্লেখ করতে বলছি।
অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সুরঞ্জিত বলেন, ব্যাংকে বরাদ্দ দিছেন ভালো কথা। কিন্তু ব্যাংকের অবস্থাটা কী? আপনার বেসিক ব্যাংকের অবস্থান ভাইঙা পড়ছে। এক্সজিম ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকে দুর্নীতি হচেছ। আমার শেয়ার বাজার থেকে এই যে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়া গেলো। অর্থমন্ত্রী আপনি দয়া কইরা এদের বিরুদ্ধে যদি একটা তদন্ত করাইতেন তাহলেও আমরা অন্তত খুশি হইতাম। ব্যাংকিং খাতে দিন দিন অবনতি ঘটবে আর আপনি টাকা নিবেন। আপনি কন কতো টাকা কী কী খাতে ঋণ দিছেন। এই টাকা কীভাবে আদায় হবে। কন আবার নেন তাতে আপত্তি নাই। এই ব্যাংকিং খাতে যে অবস্থা আমাদের ভালো মনে হচ্ছে না।
এইচএস/বিএ/আরআইপি