কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো অরাজকতা চলবে না: চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:০৮ পিএম, ১৭ মে ২০২৬

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো অরাজকতা চলবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রোববার (১৭ মে) চসিক নগরভবনে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আতড়দার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

কোরবানির পশুর চামড়ার অব্যবস্থাপনার কারণে যেন নগরীর পরিবেশ নষ্ট না হয় এবং কোরবানিদাতারা ভোগান্তির শিকার না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র। 

তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো ধরনের অরাজকতা চলবে না। কোরবানির সময় চামড়া ব্যবস্থাপনায় সামান্য অব্যবস্থাপনাও নগরবাসীর জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগরকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে চসিক, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নগরের বাইরের চামড়া এনে কৃত্রিমভাবে দাম কমানোর চেষ্টা করে। আবার কিছু খণ্ডকালীন বা মৌসুমি ব্যবসায়ী একদিনের জন্য ব্যবসায় নেমে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এতে পরিবেশ দূষিত হয়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে থাকা চামড়ার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে।

ডা. শাহাদাত বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যেকোনোভাবে শহরটাকে ক্লিন রাখা। কোরবানির পশু জবাইয়ের পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও চামড়া সংরক্ষণ না করা গেলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, খণ্ডকালীন ব্যবসায়ীরা যেন চামড়া রাস্তায় ফেলে না দেয়, সেজন্য আপনারা সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিন। এতে পরিবেশও রক্ষা পাবে, নগরও পরিচ্ছন্ন থাকবে। আমরা চাই ঈদুল আজহার সময় নগরে কোনো ধরনের অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হোক। চামড়া ব্যবস্থাপনায় সবাই দায়িত্বশীল হলে কোরবানিদাতারাও ন্যায্য মূল্য পাবেন, পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।

সভায় চামড়া ব্যবসায়ীরা লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, ট্রেনারি মালিকের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের পাওনা কোটি কোটি টাকা পরিশোধ করার এবং কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেন সক্ষমতার বাহিরে চামড়া সংগ্রহ না করে সে ব্যাপারে সহযোগিতা চান।

সভায় কোরবানি পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ মজুত করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আড়তদার সমিতিকে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লবণের মূল্য সহনীয় রাখা ও উপজেলা পর্যায়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতে বিসিককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আতড়দার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি সম্রাট মোহাম্মদ শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, উপদেষ্টা মোরশেদুল আলমসহ চামড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

এমডিআইএইচ/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।