শেষ সুযোগ, ভালো হয়ে যান : চাল ব্যবসায়ীদের খাদ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৬:০৫ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
শেষ সুযোগ, ভালো হয়ে যান : চাল ব্যবসায়ীদের খাদ্যমন্ত্রী
ফাইল ছবি

ঈদের আগে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা হলেও এখন তা ৫০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে চালের দাম, মজুদ ও আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

কোনো কারণ ছাড়া চালের দাম বাড়ানো ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের প্রতি আপনার কোনো হুঁশিয়ারি আছে কি না প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মজুদদার, আড়তদার, কল মালিক সবার প্রতি আহ্বান জানাব- ভালো হয়ে যান, সময় আছে। আপনারা যেভাবে দাম বাড়াচ্ছেন, সিন্ডিকেট করে যেভাবে চালবাজি শুরু করেছেন- তা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। শেষ সুযোগ, আপনারা ভালো হয়ে যান।

মন্ত্রী বলেন, দেশকে বিভ্রাটে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাল নিয়ে চালবাজি চলছে। আগাম বন্যার পর থেকেই চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। একশ্রেণির ব্যবসায়ী, মিল মালিক এটাকে নিয়ে চালবাজি বা রাজনীতি শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, বোরো ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক কোটি ৯১ লাখ টন। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। ব্লাস্ট ও অন্যান্য কারণে সারাদেশে মোট ২০ লাখ টন বোরো ফসল নষ্ট হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যদি ধরি ২১ লাখ টন ফসল আমরা পাইনি, তাহলে এক কোটি ৭০ লাখ টন বোরো ফসল পেয়েছি। আউশ ধান পেয়েছি ২২ লাখ টন। তাহলে এক কোটি ৯২ লাখ টন ফসল ঘরে এসেছে। সব ধান-চাল তো চলে যায়নি। দেশে প্রতিদিন চালের চাহিদা ৮৫ হাজার টন। গত ১৫ মে থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক কোটি ২ লাখ টন চাল আমরা খেয়েছি। এরপরও এক কোটি টন চাল দেশে আছে।

চাল আমদানিতে শুল্ক উঠিয়ে দেয়ার পর ভারত থেকে বেসরকারিভাবে প্রায় ৬ লাখ টন আমদানি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটাও কিন্তু বাজারে আছে। এরপরও বাজারের এ অবস্থা কিসের জন্য?

তিনি বলেন, চাল নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। সঙ্কট সঙ্কট অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। সরকারকে বিব্রতকর করার সুক্ষ্ণ ষড়যন্ত্র চলছে।

এক কোটি টন চাল দেশে থাকার পর দাম বাড়ার কথা নয়, কিন্তু তারপরও বাড়ছে। ভোক্তারা কি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। সরকারের দায়িত্ব নিয়েও তো প্রশ্ন উঠেছে এমন প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে। গত দু’দিন আগে র‌্যাব চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রশিদ সাহেবের মিলে হানা দিয়ে চাল জব্দ করেছে, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। সব জেলার মনিটরিং টিম কাজ শুরু করেছে।

বাংলাদেশ এখনও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নাকি আমদানিনির্ভর-এ বিষয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য এ অবস্থা। এছাড়া দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

সরকারি গুদামে চাল আসছে বিদেশ থেকে

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ফসলহানির পর উচ্চমূল্যের কারণে বোরো ধান সংগ্রহ করতে পারিনি। ৩৪ টাকা মূল্যে চাল পাইনি। তাই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ১২ লাখ ৫০ হাজার টন ঘরে আসেনি। এসেছে মাত্র আড়াই লাখ টনের মতো। এ জন্য আমদানি করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো সমস্যা নেই বিদেশ থেকে আমদানি করে সমস্যার সমাধান করব।

বোরো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সংগ্রহ করতে না পারার কারণে স্বাভাবিকভাবেই সরকরি মজুদ কমে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল বাংলাদেশের সীমানায় চলে এসেছে। এক লাখ ৫৪ হাজার টন গুদামে উঠেছে। অতি বৃষ্টির কারণে চাল খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। কম্বোডিয়ার সঙ্গে আড়াই লাখ টনের এলসি হয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে চাল পাবো।

টেন্ডারের মাধ্যমে সাড়ে ৩ লাখ টন চাল আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত এক লাখ ৯ হাজার ৪১ টন চাল জাহাজীকরণ করা হয়েছে। ৩০ লাখ টনের মতো চাল ঘরে এসেছে। অক্টোবরের মধ্যে সাড়ে ৩ লাখ টন চাল প্রায় পেয়ে যাব।

দুই জাহাজের ৩২ হাজার টন নিম্নমানের চাল ফেরত

মন্ত্রী বলেন, ৩২ হাজার টনের দুটো জাহাজের চাল অত্যন্ত নিম্নমানের। এ চাল যদি আমরা রিসিভ করতাম তবে গণমাধ্যমে আসত নিম্নমানের চাল কেন আনছি। অতি নিম্নমানের জন্য এ চাল ফেরত দিয়েছি।

ভারতের চাল রফতানি বন্ধের সত্যতা নেই

মন্ত্রী বলেন, একটি পত্রিকায় নিউজ করেছে ভারত তিন মাসের জন্য চাল রফতানি বন্ধ করছে। এ বিষয়ে ভারতীয় দূতাবাস, কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। তবে এ পর্যন্ত বিষয়টা কেউ নিশ্চিত করেনি…।

রোববার থেকে ওএমএসে চাল

সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে (প্রতি মাসে) দুই লাখ টনের কিছু বেশি করে চাল খরচ হবে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাতগুলো নির্বাহ করতে বেগ পাওয়ার কোনো কারণ নেই। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর ডিসেম্বর থেকে খরচ নেই। এরপর মার্চ থেকে আবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হবে।

তিনি বলেন, রোববার থেকে ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হবে। সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে ওএমএস চালু করা হচ্ছে। যেহেতু বাজারে চালের ঊর্ধ্বগতি এজন্য ওএমএস চালু হচ্ছে। চালের দাম ১৫ টাকাই থাকবে। যতদিন প্রয়োজন হবে ততদিন ওএমএস কার্যক্রম চলবে।

ঈদের কারণে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে খাদ্যবান্ধক কর্মসূচি শুরু করা যায়নি জানিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে চাল পরিবহনে সমস্যার হওয়ায় এ কর্মসূচি বন্ধ ছিল। আগামী ২০ তারিখ থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ শুরু হবে।

চালের দাম ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা মঙ্গলবার

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী মঙ্গলবার মিল মালিক সমিতি, চাল ব্যবসায়ী সমিতি, আমদানিকারকদের নিয়ে বৈঠক হবে। বৈঠকে বাণিজ্য ও কৃষিমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সবাইকে নিয়ে বৈঠক করব, কেন এই অবস্থা (চালের দামের ক্রম ঊর্ধ্বগতি)।’

সংবাদ সম্মেলনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আতাউর রহমান ও খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বদরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/এএইচ/জেআইএম