বিহারী ক্যাম্পের সংঘর্ষ : ঘটনার কারণ আজও অজানা
রাজধানী ঢাকার মিরপুরের কালশীতে পুলিশ, এলাকাবাসী ও বিহারীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষের মারা গিয়েছিলেন আজাদ নামে এক বিহারীসহ মোট ৯ জন। এ ঘটনার এক বছর পরও মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেনি পুলিশ -এমনটাই দাবি করছেন নিহত আমজাদের স্বজনদের।
২০১৪ সালের ১৪ জুন পবিত্র শব-ই-বরাতের রাতে ‘অজানা কারণে’ ওই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। সেদিন দুর্বিত্তদের অগ্নিসংযোগে মারা গিয়েছিল বিহারী ক্যাম্পের একই পরিবারের সাত জনসহ মোট ৯ জন। এছাড়াও ‘পুলিশের গুলিতে’ মারা যান আজাদ (৩৫)।
এ ঘটনায় কালশীর বিহারীরা সর্বমোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে আজাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পশ্চিম জোনের একটি দল।
এ প্রসঙ্গে আজাদের ভগ্নীপতি মো. সুমন অভিযোগ করে বলেন, ‘তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে পুলিশ আমাদের কোন আপডেট দেয় না। তদন্ত নাকি কিছুই এগোয় নি। পুলিশই দোষী, তাই পুলিশ তদন্ত করছে না।’
সুমন আরো বলেন, ‘আজাদের শরীরে ১৫-১৬টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। সে সময় শুধুমাত্র পুলিশের কাছেই অস্ত্র ছিল। গুলি চালায় শুধু পুলিশ। তাই পুলিশ স্বেচ্ছায় এর তদন্ত করছে না। বিচার আদৌ হবে কিনা এ বিষয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’
তদন্ত নিয়ে জাগো নিউজ সঙ্গে কথা বলেন মামলাগুলোর তদারকারী ডিবি কর্মকর্তা ডিবির পশ্চিম জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৯ জনকে আগুনে পুড়িয়ে মারার মামলা আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। যদিও এই মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। অগ্রগতি নেই দায়ের করা বাকি ৫ মামলার তদন্তেও।`
এদিকে এ ঘটনার এক বছর পেড়িয়ে গেলেও ঘটনার নির্দিষ্ট কোনো কারণ বের করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সংস্থা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংঘর্ষের ভিডিও প্রকাশিত হলেও আজাদের মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে সনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
এ বিষয়ে স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানিজ জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটির (এসপিজিআরসি) সভাপতি ও বিহারীদের নেতা আবদুল জব্বার খান বলেন, ‘আমরা দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই। তবে বিচারের দাবিতে আমরা সহিংস কোন আন্দোলনে যাবো না। সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি দেয়া হবে।’
এআর/আরএস