হাটে যাওয়ার আগে জানুন ভালো পশু চেনার উপায়
কোরবানির ঈদকে ঘিরে দেশের পশুর হাটগুলোতে এখন ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কেউ গরু কিনছেন, কেউ ছাগল বা ভেড়া। তবে অনেক সময় অভিজ্ঞতার অভাবে কিংবা তাড়াহুড়ো করে পশু কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন অনেকে। বাইরে থেকে মোটাতাজা দেখালেও পরে দেখা যায় পশুটি অসুস্থ, বয়স ঠিক নয় কিংবা কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় দেখানো হয়েছে।
তাই কোরবানির পশু কেনার আগে কিছু বিষয় জানা জরুরি। একটু সচেতন হলেই ভালো, সুস্থ ও উপযুক্ত পশু নির্বাচন করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক ভালো পশু চেনার কার্যকর কিছু উপায়।
সুস্থ পশুর চোখ-মুখ কেমন হবে
ভালো ও সুস্থ পশুর সবচেয়ে বড় লক্ষণ তার চোখ ও আচরণ। পশুর চোখ যদি উজ্জ্বল ও স্বাভাবিক থাকে, তাহলে সেটি সাধারণত সুস্থতার ইঙ্গিত দেয়। চোখ অতিরিক্ত লাল, পানি পড়া বা ঘোলা দেখালে সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি পশুর নাক ভেজা ও পরিষ্কার থাকা ভালো লক্ষণ। মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়া, বারবার কাশি দেওয়া কিংবা হাঁপানো অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে। পশুটি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে আছে কি না, সেটিও খেয়াল করা জরুরি।
দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করুন
কোরবানির পশুর বয়স শরিয়তসম্মত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিক্রেতা বয়স বেশি দেখানোর চেষ্টা করেন। তাই দাঁত দেখে বয়স যাচাই করার কৌশল জানা দরকার। গরুর ক্ষেত্রে সাধারণত দুইটি স্থায়ী দাঁত উঠলে তার বয়স প্রায় দুই বছর ধরা হয়। চার দাঁত হলে আরও বেশি বয়স বোঝায়। ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রেও দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা যায়। যদি সম্ভব হয়, অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে নিয়ে হাটে যাওয়া ভালো।
কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ চিনবেন যেভাবে
বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত পশু মোটা করার জন্য ক্ষতিকর ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার করেন। এতে পশু দেখতে বড় ও ভারী লাগলেও মাংসের গুণগত মান নষ্ট হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশুর শরীরে অস্বাভাবিক ফোলা ভাব থাকতে পারে। অনেক সময় পশুটি হাঁটতে কষ্ট পায় বা অস্থির আচরণ করে। শরীরের চামড়া টানটান হলেও স্বাভাবিক প্রাণশক্তি কম দেখা যায়। এ ধরনের পশু এড়িয়ে চলাই ভালো।
পশুর চলাফেরা ও আচরণ লক্ষ্য করুন
সুস্থ পশু সাধারণত চঞ্চল ও স্বাভাবিক আচরণ করে। হাঁটাচলায় সমস্যা, খুঁড়িয়ে হাঁটা কিংবা বারবার বসে পড়া অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। পশুর শরীরে কোনো ক্ষত, ঘা বা চামড়ার রোগ আছে কি না তাও ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। লেজ, কান ও খুর পরিষ্কার আছে কি না খেয়াল করুন।
আরও পড়ুন:
খাবার খাওয়ার অভ্যাস দেখুন
সম্ভব হলে বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নিন পশুটি ঠিকমতো খাবার খায় কি না। সুস্থ পশুর রুচি স্বাভাবিক থাকে। একেবারেই খাবার না খাওয়া বা দুর্বল দেখালে সতর্ক হতে হবে। পশুর পেট অস্বাভাবিক বেশি ফুলে থাকলেও সাবধান হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় অতিরিক্ত পানি বা খাবার খাইয়ে সাময়িকভাবে বড় দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
হাটে নিরাপত্তার দিকেও খেয়াল রাখুন
কোরবানির হাটে ভিড় বেশি থাকায় চুরি, ছিনতাই বা প্রতারণার ঘটনাও ঘটে। তাই সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা বা মূল্যবান জিনিস না রাখাই ভালো। সম্ভব হলে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করুন। একাই না গিয়ে পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কাউকে সঙ্গে নিলে নিরাপদ থাকা সহজ হয়।
দরদাম করার আগে বাজার যাচাই করুন
একটি পশুর দাম এক হাটে একরকম, অন্য হাটে অন্যরকম হতে পারে। তাই একাধিক হাট ঘুরে বা কয়েকটি পশুর দাম তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। শুধু বড় আকার দেখেই বেশি দাম দেওয়া ঠিক নয়। পশুর স্বাস্থ্য, বয়স ও গঠন বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করা উচিত।
ধর্মীয় বিধানও মাথায় রাখুন
কোরবানির পশু অবশ্যই নির্দিষ্ট ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। অন্ধ, মারাত্মক অসুস্থ, অতিরিক্ত দুর্বল কিংবা পা ভাঙা পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়। তাই পশু কেনার আগে ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।
সচেতনতাই পারে সঠিক পশু নির্বাচন নিশ্চিত করতে
কোরবানির পশু কেনা শুধু একটি কেনাকাটা নয়, এটি ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও। তাই আবেগ বা বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে পশুর স্বাস্থ্য, বয়স ও উপযুক্ততার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অল্প কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলেই প্রতারণা এড়িয়ে ভালো ও সুস্থ পশু কেনা সম্ভব। তাই হাটে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে, ধৈর্য নিয়ে এবং বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নিন।
জেএস/