মৃত্যুদণ্ড দিলে ভেজাল মেশানো বন্ধ হবে : রওশন এরশাদ


প্রকাশিত: ১০:১০ এএম, ১৫ জুন ২০১৫
ফাইল ছবি

বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, খাদ্য ও ওষুধে ভেজালকারীদের সর্বোচ্চ শান্তি মৃত্যু কার্যকর হলে এটি বন্ধ হবে। আমরা প্রতিদিনই বিষ খাচ্ছি। ভেজাল খাদ্য ও ওষুধে মানুষকে পয়জনিংয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যারা ভেজাল মেশাচ্ছেন তারাও নিরাপদ নয়।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রী হোস্টেলের আইপিডি সেন্টারে আয়োজিত বিশিষ্টজনের সাথে মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা এ কথা বলেন। ‘খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণের বিরুদ্ধে করণীয়’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভাপতি জাতীয় পার্টি আয়োজন করে।

মতবিনিময় সভায় আরো বক্তৃতা করেন- বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, ফখরুল ইমাম, হুইপ নূরুল ইসলাম ওমর, আলতাফ, মামুনুর রশিদ, শাহানারা বেগম, ইয়াহিয়া চৌধুরী, রওশন আরা মান্নান, খোরশেদ আরা হক, জানিপপের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, ন্যাশনাল এলিয়ান্স অব ডিজাবল পিপল্স অরগানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট আব্দুল সাত্তার দুলাল, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত প্রমুখ।

বক্তারা খাদ্যে ও ওষুধে ভেজাল মুক্ত করার জন্য জনপ্রতিনিধিসহ সামাজিকভাবে সবাইকে আরো বেশি সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বরোপ করেন। তারা বলেন, ভেজাল দূরের জন্য দরকার আইনের বাস্তব প্রয়োগ।

আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে সরকারকে বাস্তব ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান রওশন এরশাদ। এছাড়া রমজানে রাজধানীর অলি-গলিতে ইফতারির দোকানগুলো সরকার কেনো অনুমোদন দেয় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তিনি।

তিনি বলেন, এসব দোকানে ভেজাল ইফতারি বিক্রি করা হয়। বাংলাদেশে রমজান মাস শুরুর পূর্বেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সীমা লংঘন করে থাকে। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে চরম দুর্দশা নেমে আসে এবং গরীব, অসহায় ও ও দুঃস্থ মানুষেরা নিত্যপণ্য দ্রব্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।

ভেজালবিরোধী আইন খুব একটা কার্যকর নয় জানিয়ে তিনি বলেন, যে আইন আছে তার প্রয়োগ খুব একটা দেখছি না। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে রওশন এরশাদ বলেন, টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস সবচেয়ে ভালো। একদিন আমি বাগান থেকে ভালো আনারস কেনার জন্য যাই, সেখানে দেখতে পাই আনারসে হরমন মেশানো হচ্ছে। আমি মিশ্রণকারীদের কাছে জানতে চাইলে বলেন, আনারস দ্রুত বড় হবে। এক রাতের মধ্যে পট পট পট করে বড় হয়ে যাবে। এই যদি হয় দেশের অবস্থা তাহলে তরুণ প্রজন্ম মেধাবী হবে কি করে?

তিনি বলেন, মুন্সিগঞ্জে দুধ ছাড়াই দুধ বানানো হচ্ছে। খেজুরের রস ছাড়াই খেজুরের গুড়, আখের রস ছাড়াই হচ্ছে আখের গুড়। এভাবে জাতিকে দিন দিন মেধাহীন করা হচ্ছে।

রওশন এরশাদ আরো বলেন, আমাদের শিক্ষা ও গবেষণা কাজে প্রতি বছর মাত্র কয়েক টন ফরমালিন প্রয়োজন হলেও আমদানি করা হচ্ছে ১৭ হাজার মেট্রিক টন। এই ফরমালিন কারা আমদানি করছে, কোথায় যাচ্ছে ফরমালিন? বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে ভেজালবিরোধী আইন করে গেছেন। সেই আইনে বলা আছে, যারা খাদ্যে ভেজাল মেশাবে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, তাহলে সেটা কার্যকর হচ্ছে না কেন? তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা চাইলে একদিনেই এসব বন্ধ করতে পারেন। তবে তিনি কেন করছেন না?

এইচএস/আরএস/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।