উত্তরা থেকে নিখোঁজ সরিষাবাড়ি পৌর মেয়র
ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় এসে নিখোঁজ হয়েছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ি পৌরসভার মেয়র এবং পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুকুনুজ্জামান (রুকন)। গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের গাউসুল আজম রোডের ৬০ নং বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি।
সোমবার দুপুরের পর থেকে মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে রুকনের। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ভাইয়ের সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি করেছেন তার বড় ভাই সাইফুল ইসলাম টুকন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা পশ্চিম থানায় করা সাধারণ ডায়েরি নং-১৬১১। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রুকনের খোঁজ মেলেনি বলে জানিয়েছে পরিবার ও পুলিশ।
উত্তরা পশ্চিম থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে বলা হয়, সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের পার্কে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন রুকুনুজ্জামান। সোমবার দুপুরের পর থেকে তার মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

নিখোঁজ মেয়রের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম টুকন জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার পর মোবাইল ফোনে ২০-২৫ বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বরং দুপুর ১টার পর থেকে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভাইয়ের খোঁজও মেলেনি।
তিনি বলেন, আমার ভাই জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি পৌরসভার মেয়র। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদেও আছেন। পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ব্যবসা করেন। তার উপার্জনে পরিবার চলে। ব্যবসায়িক ও অফিসের কাজে ঢাকায় আসলেই তিনি উত্তরায় ভাড়া নেয়া ওই বাসায় থাকতেন।

কেঁদে কেঁদে বড় ভাই টুকন বলেন, ছোট ভাই রুকন কারো ক্ষতি করেনি। কে বা কারা তাকে অপহরণ কিংবা গুম করতে পারে তা আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রী সদয় হলে আমার ভাইকে খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।

রুকুনুজ্জামানের নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা জিডির তদন্ত করছেন উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সরিষাবাড়ির পৌর চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামানের নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে তদন্ত করছি। বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার পৌর মেয়র রুকুনুজ্জামানের ফেসবুক আইডিতে গিয়ে দেখা যায়, গত রোববার রাত ৯টা ১৩ মিনিটে সর্বশেষ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। সেখানে লেখা, তোমাদের এই ভালোবাসা আমি কোনো দিন ভুলতে পারবো না। তোমাদের এই ভালোবাসার কাছে মনে হয় আমি হেরে গেলাম। আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। তারপরেও বলতে চাই ‘ভলোবাসি ভালোবাসি’। এই ভলোবাসা নিয়েই সব কিছু জয় করতে চাই এবং এই ভালোবাসা নিয়েই মরতে চাই। নতুন প্রজন্মের কাছে আমার আহ্বান যে, আমাকে হত্যা করা হলেও তোমাদের সিক্ত ভালোবাসা যেন অটুট থাকে এবং আমার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তোমরা ধরে রাখবা।
জেইউ/এআরএস/জেআইএম