জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে বসছে চার্জ
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন, নবায়ন, তথ্য যাচাই ও হারানো কার্ড উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে চার্জ বা ফি কার্যকর করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই-একদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত পৃথক দু`টি প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে ইসি।
ইসি-সূত্র জানায়, পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা পেতে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে নাগরিকদের।
ইসি-সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। প্রজ্ঞাপন দুটি জারির পর থেকে সরকারি সংস্থা ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে নাগরিক তথ্য যাচাই বা তথ্য-উপাত্ত পেতে নির্বাচন কমিশনকে ফি পরিশোধ করতে হবে।
প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে, এককালীন নিবন্ধন চার্জ হিসেবে ৫ লাখ টাকা, প্রথম ৭০টি সাব-ইউজারের প্রতিটির জন্য ৪ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতিটি সাব-ইউজারের জন্য ২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি তথ্য প্রতিবার যাচাইয়ের জন্য ২ টাকা হারে পরিশোধ করতে হবে।
অপরদিকে সরকারি সংস্থা বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের ক্ষেত্রেও এককালীন সার্ভিস চার্জ ৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। বার্ষিক সেবা চার্জ/বার্ষিক সেবা নবায়ন চার্জ এক লাখ টাকা এবং প্রতিটি তথ্য-উপাত্ত প্রতিবার সরবরাহের জন্য ১ টাকা হারে সরবরাহ চার্জ দিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে প্রথমবার আবেদনে ২০০ টাকা, দ্বিতীয়বার আবেদনে ৩০০ টাকা ও পরবর্তী যেকোনোবার আবেদনে ৪০০ টাকা, তথ্য-উপাত্ত সংশোধনে প্রথমবার আবেদনে ১০০ টাকা, দ্বিতীয়বার আবেদনে ২০০ টাকা ও তৃতীয়বার আবেদনে ৩০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ব্যক্তি কর্তৃক জাতীয় পরিচয়পত্রের সঠিকতা যাচাইয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা ও জরুরিভিত্তিতে নবায়নে ১৫০ টাকা, হারানো বা নষ্ট হওয়ার কারণে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে প্রথমবার সাধারণ আবেদনে ২০০ টাকা ও জরুরি আবেদনে ৩০০ টাকা, দ্বিতীয়বার সাধারণ আবেদনে ৩০০ টাকা ও জরুরি আবেদনে ৫০০ টাকা এবং পরবর্তী যেকোনো সাধারণ আবেদনে ৫০০ টাকা ও জরুরি আবেদনে ১ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত ফি বা চার্জ সরাসরি ব্যাংকে বা মোবাইলের মাধ্যমে জমা দেয়া যাবে। ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হলে ফি নির্দিষ্ট খাতে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অথবা সচিব, নির্বাচন কমিশনের অনুকূলে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দেয়া যাবে। আর মোবাইলের মাধ্যমে জমা দিতে চাইলে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত নম্বরে মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
এসকেডি/এআরএস/আরআইপি/এসআরজে