ঢাকায় ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতিতে নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু
ঢাকা শহরের বায়ু, পানি ও মাটিদূষণের প্রেক্ষাপটে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় জাপনি মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশের সর্ববৃহৎ নগর বনায়ন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে উত্তরা দিয়াবাড়ী ৪ নম্বর ব্রিজ-সংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড়ের পূর্ব পাশে গ্রিনবেল্ট চিহ্নিত স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
এর আগে একই স্থানে ফেইজ-১ (চেইনেজ শূন্য থেকে ১৫০ মিটার) অংশে ১৪ হাজার বৃক্ষরোপণের কাজ গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে এ বছরের ১৫ জানুয়ারি সময়ে সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুরু হওয়া ফেইজ-২ ও ফেইজ-৩ অংশে প্রায় ২ দশমিক ৬০ একর এলাকাজুড়ে প্রায় ৩৯ হাজার ৪০০ গাছ রোপণ করা হবে। যেখানে দেশীয় ফলজ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাত, শোভাবর্ধনকারী, কনিফার, গুল্ম ও ঝোপালোসহ প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মিয়াওয়াকি পদ্ধতির এই বনায়নে বায়োফিলিক ডিজাইন ও বায়োমিমিক্রি নীতিমালা অনুসরণ করে উঁচু-নিচু টিলা, আঁকাবাঁকা পথ এবং লেকপাড় ঘেঁষে হাঁটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত দোআঁশ মাটির সঙ্গে ভার্মি কম্পোস্ট, কোকোডাস্ট, রাইস হাস্ক, বোনমিল ও অর্গানিক সার মিশিয়ে বনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। জাপানি ধারণা ‘শিনরিন ইয়োকু’ বা ‘বন স্নান’-এর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে ঘন সবুজের ভেতর পদচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসির এই নগর বনায়ন কার্যক্রমে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন অধিদপ্তর, শক্তি ফাউন্ডেশন, গ্রিন সেভার্স, গ্রিন ভয়েস, ব্রাইটার্স, ইউথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন, যুব ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা। এছাড়া ইডিফেস প্রতিষ্ঠান মিয়াওয়াকি বনায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই ও সার্ভে কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
বায়ুমান বিশ্লেষণ ও করণীয় নির্ধারণে টাস্কফোর্স সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রওফা খানম। মিয়াওয়াকি, বায়োফিলিক ডিজাইন ও ল্যান্ডস্কেপ ধারণায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন আরহাম উল হক চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিএনসিসি আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের কর্মপরিকল্পনা এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এর প্রথম বছরে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই নগর বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিএনসিসি একটি দীর্ঘমেয়াদি সবুজ অবকাঠামো গড়ে তুলে নগরের বায়ুমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, গাছের উপকারিতা সবাই জানলেও নগর জীবনে এর বাস্তব প্রভাব উপলব্ধি করা যায় এমন উদ্যোগ খুব কম। এই বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। এখানে এসে মানসিক স্বস্তি অনুভব করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের পরিবেশ নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, এই বনভূমি ঢাকা শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। আগামী পাঁচ বছরে ৫ লক্ষ গাছ রোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখানে ৩৯ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।
এমএমএ/একিউএফ