বাঁশের আঘাতে বাবার চোখ নষ্ট, ছেলের ১২ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৭ পিএম, ১৮ মে ২০২৬
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা/ছবি: জাগো নিউজ

পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার চোখে গজালযুক্ত বাঁশ দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করার ঘটনায় ছেলে এমদাদুল হক বাদলকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় বাদলের স্ত্রীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত বাদলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি ও বাদলের স্ত্রী মোছা. রতনাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ ভবনের দ্বিতীয় তলায় এবং তার ছেলে বাদল তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন।

ঘটনার দিন বাড়ির কেয়ারটেকার ছামিউল হক বাদলকে জানান, তার বাবা টাকা চাইছেন। পরে নিচে গিয়ে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বাদল। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও গালাগাল শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের মাথায় কাপড় পেঁচানো লোহার গজাল দিয়ে বাবার বাম চোখে আঘাত করেন বাদল। এতে আব্দুল লতিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয় বলে সাক্ষীরা আদালতে জানিয়েছেন।

রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত জব্দ তালিকা, মেডিকেল সনদ ও নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহবুবুল আলম আদালতকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি, একটি বাঁশ, গজাল এবং সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। পরে ফুটেজ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত (সিআইডি) বিভাগে পাঠানো হয়।

সাক্ষীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাদল ও তার বাবার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার সময় চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা বাইরে এসে আব্দুল লতিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কয়েকজন সাক্ষী বাদলের হাতে বাঁশও দেখেছেন বলে আদালতে জানান।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ আদালতে দাবি করে, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। তবে সাক্ষ্য, চিকিৎসা নথি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেনসিক আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

তবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ওই ধারায় বাদলকে খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার পূর্ব হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
এমডিএএ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।