সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০১৭

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে আবদুর রহমান বিশ্বাসের বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি ৬ ছেলে, ২ মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কিছুদিন আগে তিনি তার স্ত্রীকে হারান।

মরহুমের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান। খালেদা জিয়া ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক এ রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বলেও জানান শায়রুল।

বাংলাদেশের ১১তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তিনি ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আবদুর রহমান বিশ্বাসের স্কুল ও কলেজ জীবন কাটে বরিশালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান) ও ইতিহাস এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

প্রথমে তিনি স্থানীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষা বিস্তারের জন্য তিনি কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই কাজের জন্য সরকার ১৯৫৮ সালে তাকে সমাজকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ষাটের দশকে কিছুদিন বাবুগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বরিশালে আইন পেশায় জড়িয়ে পড়েন।

১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি জাতিসংঘের ২২তম সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে তিনি বরিশাল বার আসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

১৯৭৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সময়ে তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী সভায় পাটমন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৮১-৮২ সালে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রী সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।

এমএম/এআরএস/এমআরএম/আইআই

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]