‘মনে অয় সাইবেরিয়ার শীত ঢাকায় নাইম্যা পড়ছে’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৫৩ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা। আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্বদিকে পলাশী মোড়ের দিকে রাস্তার আইল্যান্ডে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে তিন পথ শিশু। ক্ষণে ক্ষণে নড়েচড়ে উঠছে। একটু পর পর চোখ খুলে ওরে মাগো বলে আবার কাঁথা মাথা পর্যন্ত টেনে নিচ্ছিলো। পথচারী একজন এ দৃশ্য দেখে ডেকে বলে, ‘কিরে আইজ শীত কেমুন।’

পথ শিশুদের একজন আড়মোড়া দিয়ে জেগে উঠে জবাব দেয়, ‘এমুন ঠান্ডা বাতাস শীত, মনে অয় কেউ সইল্লে (শরীরে) সুঁই ফুটাইতাছে।’ এরপর ওই পথচারী শিশুটির সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, ‘ঠিকই কইছস, এমুন ঠান্ডা মনে অয় যেনো সাইবেরিয়ার শীত ঢাকায় নাইম্যা পড়ছে।’

দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব রাজধানী ঢাকাতেও পড়েছে। আর তাই আজিমপুরের এই পথশিশু ও পথচারীদের মতো ঢাকার হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠে শীত নিয়ে আলোচনা। আজ (সোমবার) ভোর বেলা রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা বাতাস বইছে।

ajimpur-1

রাজধানীর নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, আজিমপুর, লালবাগ, শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুরা সাধ্যমতো গায়ে গরম সোয়েটার, শাল, জ্যাকেট, মাফলার, কানটুপি ও হাতমোজা পড়ে রাস্তায় নেমেছেন। সবার এক কথা এবার সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা কি আজ পড়েছে। তীব্র শীতের কারণে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে।

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা শাহিনুর নামের এক গার্মেন্টস শ্রমিক এলিফ্যান্ট রোডের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। সোমবার সকাল ৮টায় পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে শাহিনুর জানান, ভোর সাড়ে ৬টায় ঘুম থেকে উঠার পর ঠান্ডায় হাত পা জমে যাচ্ছিলো। কাজে যেতে মন চাইছিলো না। কিন্তু চাকরি বাঁচাতে এতো ঠান্ডার মধ্যেও কর্মস্থলে ছুটতে হচ্ছে। এমন শীত হলে তাদের মতো সাধারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন।

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার একটি বাড়ির কেয়ারটেকার জামাল হোসেন বলেন, বাড়ির গেটে সারা রাত ডিউটি করি। ভোর রাতে মনে হয়েছে যেন বরফ পড়ছে। ঠান্ডার কারণে কানে ব্যথা শুরু হয়ে গেছে।

ajimpur-1

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখায় সকালে মেয়েকে দিতে এসে রীতিমতো কাঁপছিলেন গৃহবধূ শাহানা। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এতো ঠান্ডার মধ্যে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে আসতে চাইছিলেন না । কিন্তু মেয়ে স্কুলে আসবে বলে কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। বছরের প্রথমে পড়ার চাপ কম থাকায় খেলাধুলা করার সুযোগ পায় বলে এতো শীতেও স্কুলে আসতে বায়না ধরে। শীতে মেয়েকে স্কুল ড্রেসের নিচে ডাবল গরম কাপড় পড়িয়েছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় ৫০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। ১৯৬৮ সালে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পর আজ তেতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

এমইউ/এআরএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :