‘জাতিসংঘে বাংলা’র দাবির প্রতি ব্যাপক সাড়া

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৯:০১ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

‘উনিশ শো বাহান্নর দারুণ রক্তিম পুষ্পাঞ্জলি
বুকে নিয়ে আছো সগৌরবে মহীয়সী।
সে ফুলের একটি পাপড়িও ছিন্ন হলে আমার সত্তার দিকে
কতো নোংরা হাতের হিংশ্রতা ধেয়ে আসে।’

‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ কবিতায় কবি শামসুর রাহমান বাংলা ভাষার জয়গান গেয়েছেন এভাবেই।

হরফের রং সাধারণত কালো হয়। সাদাতে কালোর বন্ধন অটুঁট রাখতেই এমন রংমিলান্তি হয়ত। কিন্তু বাংলা হরফ যে রঙেই লেখা হোক না কেন, তাতে অন্তর্নিহিত রক্তিম বর্ণ প্রকাশ পাবেই। বুকের রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষা করেছে বাঙালি-ই, সে ভাষার রং রক্তলাল-ই বটে।

একটি ভাষা পুঁজিবাদের আগ্রাসী নীতির মূলে যে শেল হয়ে বিঁধতে পারে, তাও বাঙালির সৃষ্টি। ভাষার প্রশ্নেই একটি জাতিসত্তার পত্তন হতে পারে, তা-ও বিশ্ব দেখেছে। মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষার্থে বুকের রক্ত ঢেলে পৃথিবীর সব ভাষাকে মর্যাদা আর সম্মানে আসীন করেছে বাঙালি-ই।

তাই ভাষার মর্যাদা রক্ষা আর বাংলাকে বৈশ্বিক রূপ দিতে ‘জাতিসংঘে বাংলা চাই’ এমন স্লোগানে জাগ্রত হচ্ছে বাঙালি। জীবন দিয়ে যে ভাষা রক্ষা, এখন স্লোগানে স্লোগানে তার আন্তর্জাতিক রূপ দিতে চাইছে যেন।

‘জাতিসংঘে বাংলা চাই’ এমন স্লোগান নিয়েই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে অনলাইনে আবেদন ক্যাম্পেইনে নেমেছে জাগো নিউজ২৪.কম। আবেদনে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অমর একুশে বইমেলায় জাগো নিউজ.২৪কম-এর স্টলে আবেদনের প্রতি সমর্থন জানাতে ভোটারদের ভিড় জমছে প্রতিনিয়ত।

বৃহস্পতিবার জাগো নিউজ-এর স্টলে এসে অনলাইনে ভোট দিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মাসুদ রহমান। বলেন, এ দাবি তো সব বাঙালির হওয়া উচিত। এখানেই মাঠে নামতে হবে সবার। জাতিসংঘে বাংলা ভাষা ব্যবহারের কী করণীয়, তার জন্য স্ব-স্ব জায়গা থেকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ছয়টি দাফতরিক ভাষা ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, মান্দারিন, রুশ ও আরবির সঙ্গে বাংলাকে সপ্তম দাফতরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার দাবি এখন সর্বত্রই। এ দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দেশের শীর্ষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজ২৪.কম।

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বাইরে থেকে যে কোনো ব্যক্তি তার নাম এবং ই-মেইল অথবা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আবেদন (দাবির প্রতি একাত্মতা) করতে পারছেন। কর্মসূচি শেষে জাতিসংঘের মহাসচিব বরারব আবেদন (পিটিশন) পৌঁছে দেয়া হবে। মাসব্যাপী এ কর্মসূচিতে সহায়তা করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘প্রাণ’ গ্রুপ।

এএসএস/জেডএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :