পা হারানো রোজিনাও চলে গেলেন

ঢামেক প্রতিবেদক
ঢামেক প্রতিবেদক ঢাকা মেডিকেল
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ এএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৯:২৬ এএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৮

রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারিয়ে কলেজছাত্র রাজীবের মৃত্যুর পর বনানীতে বিআরটিসি গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে পা হারানো রোজিনাও (২১) চলে গেলেন। রোববার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোজিনা আক্তার ঢামেক হাসপাতালের ১ নং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ (রোবাবর) সকাল ৭টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

ঢাকায় দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারিয়ে কলেজছাত্র রাজীবের মৃত্যুর পর সপ্তাহ না যেতেই বাসের চাপায় পা হারান রোজিনা আক্তার। পরে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) ঢমেক বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জারির প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালামকে প্রধান করে ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজকে ওইদিন জানিয়েছিলেন, রোজিনা বুধবার (২৫ এপ্রিল) পঙ্গু হাসপাতাল থেকে ঢামেকে রেফার করা হয়। তার ডান পা হারানো ছাড়াও অন্যান্য সমস্যা আছে কি-না সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এছাড়া তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে পায়ের ক্ষতস্থান ড্রেসিং করা হয়েছে।

সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার বাসায় কাজ করতেন রোজিনা। ২০ এপ্রিল (শুক্রবার) আত্মীয়ের বাসায় বেড়ানো শেষে ফেরার পথে রাত ৮টার দিকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে বিআরটিসির বাস (ঢাকা মেট্রো ব ১১-৫৭৩৩) তাকে ধাক্কা দেয়। রোজিনা পড়ে গেলে বাসটি তার ডান পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় ঘটনায় গাজী টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক মহিউদ্দিন আহমেদ রাজধানীর বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল কারওয়ান বাজার মোড়ে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুই বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে এক হাত হারান সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও মারা যান।

এসএইচ/আরএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :