‘পারসোনায় যাওয়ার আগে দুইবার চিন্তা করুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০০ এএম, ১৩ জুন ২০১৮

বিদেশি পণ্য বলে রূপসজ্জায় নকল ও ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহার করায় বিউটিশিয়ান কানিজ আলমাস খানের প্রতিষ্ঠান পারসোনাকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাগো নিউজে সংবাদটি প্রকাশের পরপরই পারসোনার গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

অন্যান্য পার্লারের চেয়ে ৩-৪ গুণ টাকা নিয়েও গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার জন্য কেউ কেউ পারসোনাকে সিলগালা করার দাবি জানিয়েছেন। কেউ বলেছেন জরিমানার অংকটা আরও বেশি হওয়ার প্রয়োজন ছিল।

নীলা রওনক নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ‘যাদের জন্য এত ওপরে ওঠা এখন তাদের সাথেই প্রতারণা !!! টাকা দেয়ার সময় কোনো গ্রাহক কি প্রতারণা করে??’

শেলী আলমগীর মন্তব্য করেন, ‘সিলগালা করে দেয়া হোক।’

ইভান জামাল লিখেছেন, ‘সিলগালা করে জেলে ঢুকানোর দরকার। আমরা একটা প্রতারক জাতিতে পরিণত হয়েছি।’

সুমাইয়া মাসুদ মন্তব্য করেন, ‘শেইম অন ইউ।’ (ছিঃ)

p

কাজি আব্দুর রহমান মন্তব্য করেছেন, এর আগে সিসিটিভি ক্যামেরা ইস্যুতে একবার বদনাম কুড়িয়েছিল পারসোনা, এবার নকল কসমেটিকস। মেয়েদের পারসোনায় যাওয়ার আগে দুইবার ভেবে দেখা উচিৎ।

মাসুম বিল্লাহ মন্তব্য করেছেন, ‘চকবাজারের ভুয়া পণ্য নিয়া এরা নামিদামি কয়ে চালায়। বড় বড় ব্র্যান্ড সবাই চকের সস্তা জিনিস নিয়া ট্যাগ লাগাইয়্যা বিদেশি বলে ক্রেতাদের পকেট কাটে। প্রমাণ নিজ চোখে দেখা।’

মীর উর্মী মন্তব্য করেছেন, ভালো হয়েছে জরিমানা করেছে। পার্লারটা ৬ মাসের জন্য বন্ধ রাখলে ওদের (পারসোনার) উচিৎ শিক্ষা হতো। কারণ আজ টাকা দিয়ে কাল ভুলে যাবে যে কী মিসটেক (ভুল) করেছে।

ইজাজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, শুধু জরিমানা কেন বন্ধ করে দেয়া হোক।

p

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ নম্বরের শাখায় চলে এই অভিযান। অভিযানে চার লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করা হয় পারসোনাকে। পরবর্তীতে একই চিত্র দেখা গেলে তাদের দিগুণ জরিমানা করা হবে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক রজবী নাহার রজনী।

অভিযানের তদারকি কর্মকর্তা মনজুর শাহরিয়ার জাগো নিউজকে বলেন, দেশের নামকরা বিউটি পার্লার পারসোনা রূপসজ্জায় নকল প্রসাধনী ব্যবহার করছে। দেশের তৈরি নকল ও ভেজাল পণ্যকে বিদেশি পণ্য বলে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার করছে যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিষ্ঠানটির ওপর মানুষের রয়েছে আস্থা ও বিশ্বাস। সেই সরলতাকে পুঁজি করেই ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করছে পারসোনা। বাড়তি মুনাফার লোভে মানুষের স্বাস্থ্য ও ত্বক নিয়ে অবহেলা করছে। এসব অভিযোগে পারসোনা উইমেনকে আড়াই লাখ টাকা এবং পারসোনা ম্যানকে দেড় লাখ টাকাসহ মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এআর/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :