রমজানে দুই হাজার প্রতিষ্ঠানকে দুই কোটি টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৭ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮
নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অপরাধে রাজধানীর বংশালে হোটেল আল রাজ্জাককে গত ১১ জুন চার লাখ টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর

মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল ও নকল পণ্য বিক্রি, মিথ্যা বিজ্ঞাপন, ওজনে কারচুপি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়সহ ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে রমজান মাসজুড়ে প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দুই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

অধিদফতরের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মে থেকে ১৩ জুন (১ থেকে ২৭ রমজান ) পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ৬৬৬টি অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে মোট এক হাজার ৯৮৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট এক কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে পুরস্কার পেয়েছেন ১০২ জন। এই অভিযোগকারীদের দুই লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা দেয়া হয়েছে।

parsona-7

বিদেশি পণ্য বলে রূপসজ্জায় নকল ও ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারের দায়ে বিউটিশিয়ান কানিজ আলমাস খানের প্রতিষ্ঠান পারসোনাকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে পারসোনা উইমেনকে আড়াই লাখ এবং পারসোনা ম্যানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ১২ জুন রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর

অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জাগো নিউজকে বলেন, রমজান মাস আসলে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী ভোক্তাদের ঠকানোর প্রতিযোগিতায় নামে। তাই এবার রমজান মাসজুড়েই ছুটির দিনসহ অধিদফতরের পক্ষ থেকে সারাদেশে অভিযান চালানো হয়। ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডসহ কোম্পানিকেও জরিমানা করা হয়। এ সময় অনেক অবৈধ নকল খাদ্যসামগ্রী তৈরির কারখানাকে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়। গতকাল (বুধবার) পর্যন্ত এক হাজার ৯৮৭টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা হরা হয়। তবে আজকে ২৮ রমজান পর্যন্ত জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এবার রমজানের বিশেষ অভিযানকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। আমরাও বেশ সারা পেয়েছি। যারা ভোক্তা আইন অমান্য করেছে অভিযানে তাদের জরিমানার পাশাপাশি বেশকিছু পতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়। ঈদের পর ওসব প্রতিষ্ঠানকে অধিদফতরে ডাকা হবে। যারা সংশোধন হবে না, নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরেুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আইন অনুযায়ী জেল, জরিমানা করা হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে। রমজানের মতো এ অভিযান সারাবছর অব্যাহত থাকবে।

এসআই/জেডএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :