অপরাধ করে এখন কেউ শাস্তি এড়াতে পারে না : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৯ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৮

কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধ করে কেউ এখন শাস্তি এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ক্ষমতা বা রাজনৈতিক পরিচয়ে কোনো অপরাধী আর বিচার এড়াতে পারে না।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারপতি সিকান্দার আলী স্মৃতি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে ‘আইনের শাসন এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গ’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিচারপতি সিকান্দার আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ড. নাইমা আক্তার এবং বিচারপতি সিকান্দার আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ডের দাতা সারওয়ার সুলতানা বক্তৃতা করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার ফলে এখন এই নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং অপরাধ করে কেউ শাস্তি এড়াতে পারে না। ক্ষমতা বা রাজনৈতিক পরিচয়ে কোনো অপরাধী আর বিচার এড়াতে পারে না। প্রত্যেক অপরাধীই তাদের স্ব-স্ব অপকর্মের জন্য দায়ী। সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।

তিনি আইনের শাসনের ইতিহাস, বাংলাদেশে আইনের শাসনের মূলনীতি লঙ্ঘন এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন সংবিধানের অন্যতম মূল ভিত্তি হলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

‘বাংলাদেশে আইনের শাসনের নীতির সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন ঘটেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের পর। কারণ ওই হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোস্তাক একটি ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারি করে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই অর্ডিনেন্স ছিল বাংলাদেশের একটি কালো আইন।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর ওই অর্ডিনেন্সকে শুধু আইনেই পরিণত করেননি, তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। খুনিদের রক্ষা করেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী ও রাজাকারদের আইনগত বৈধতা দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি (জিয়াউর রহমান) বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রার্থীদের আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলেন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, “১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তারা ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্য শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার গঠন করলে সুপ্রিম কোর্টে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের আপিল শুনানি বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে কয়েকজন বিচারপতি আপিল শুনতে বিব্রত বোধ করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আইনের শাসনের নীতি প্রতিষ্ঠার বদলে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।”

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল শুনানির গতি পায় এবং ওই মামলার রায় কার্যকর হয়। পাশাপাশি জেল হত্যা মামলা, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার হয়। দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনার সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে শুধু বড় বড় মামলার বিচার করছে না, অন্যান্য মামলাগুলোরও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। জান-মালের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সুন্দর নীতি ও আইন প্রণয়ন করছে।’

অনুষ্ঠান শেষে চলমান রাজনৈতিক সংলাপ নিয়ে আইনমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি চলমান আলাপ-আলোচনার একটি পার্ট, আমাদের দলনেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের যে অবস্থান তা তিনিই সংলাপে উপস্থাপন করবেন। এ ব্যাপারে আমি কোনো ব্যাখ্যা দেব না।’

এফএইচ/এমএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :