ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:০০ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৮

>>ঘুষ ছাড়া ফাইল না ছাড়া পীড়াদায়ক : দুদক
>> তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিক বদলি
>> তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন

হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে (সিজিএ) চলছে মহা দুর্নীতি। ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। ফাইল আটকিয়ে রাখা হয় দুই থেকে তিন মাস। ঘুষ লেন-দেন ও পেনশনারদের হয়রানি বেড়েই চলেছে।

যে কারণে সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত এই কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদিন দুদক অভিযান কেন্দ্রের হটলাইনে ( ১০৬) অভিযোগ আসে যে, ‘সিজিএ অফিসে যে কোনো ধরনের বিল নিয়ে গেলে ঘুষ ছাড়া পাস করানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে পেনশন, পে-ফিক্সেসন ও ঠিকাদারি বিল পরিশোধে বেশি করে ঘুষ চাওয়া হচ্ছে।’

এ অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সিজিএ অফিসে এই অভিযান চালায় দুদকের বিশেষ টিমের সদস্যরা। দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়ক ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদের নির্দেশে এ অভিযানের নের্তৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান। এ সময় তার সঙ্গে উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাতসহ পুলিশের চার সদস্যের একটি টিম ছিল।

অভিযানের সময় প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার (সিএও-স্বরাষ্ট্র) কার্যালয়ের একজন সুপারসহ তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বিরুদ্ধে দুই থেকে তিন মাস যাবৎ ফাইল আটকিয়ে রেখে পেনশনারদের হয়রানির বিষয়টি নিশ্চিত হয় দুদক টিম। অপরদিকে সিএও যুব ও ক্রীড়ার কার্যালয়ের একজন অডিটরের বিরুদ্ধে একই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। এ জন্য তাদের দুদক টিমের পরামর্শক্রমে তাৎক্ষণিকভাবে বদলির ব্যবস্থা নিয়েছে স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষ।

আবার সিএও স্বাস্থ্য এর প্রশাসন ও পেনশন শাখার অডিট সুপার ২০ থেকে ২৫টি ফাইল দুই থেকে তিন মাস যাবৎ আটকিয়ে রাখার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন দুদক টিমের সদস্যরা।

এ পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে উপ-হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (প্রশাসন) মো. মাজহারুল ইসলামের নের্তৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

অভিযান প্রসঙ্গে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ বলেন, পেনশন কিংবা যে কোনো বিল পাস করাতে ঘুষের অভিযোগ পীড়াদায়ক। এ জাতীয় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের ফাঁদ পেতে আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা হবে। আর ১০৬ এর মাধ্যমে অভিযোগ পেলেই অভিযানও চালানো হবে।’

এমইউ/জেডএ/পিআর