৪৯২ উপজেলার কোনটিতে ভোট, কোনটিতে নয়

সিরাজুজ্জামান
সিরাজুজ্জামান সিরাজুজ্জামান , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:০৯ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৯

দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে ৪৮০টি উপজেলা পরিষদে ৫ ধাপে ভোট করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপের তফসিল ৩ অথবা ৪ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করে মার্চে ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির। তবে এবার বিভিন্ন জটিলতার কারণে ১২টি উপজেলা পরিষদে ভোট হচ্ছে না। এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় ৩৯ রাজনৈতিক দলের বাইর কেউ নির্বাচন করতে চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে আসতে হবে। ইসি সূত্র এসব তথ্য জানায়।

জানা গেছে, এবছর ৪৮০টি উপজেলা মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে ৩৪ উপজেলার মধ্যে ভোট হবে ৩৩টিতে। এ বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা সীমানা সংক্রান্ত মামলার কারণে নির্বাচন হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪৯ উপজেলার মধ্যে ৪৭টিতে ভোট হবে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালে। এ কারণে এ দুই উপজেলা পরিষদে ভোট হবে না এবছর।

রংপুর অঞ্চলে ৫৮টির মধ্যে ৫৭টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ হবে। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের ১ম সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ কারণে এবছর ভোট হচ্ছে না এই উপজেলায়।

ময়মনসিংহ ৬০টির মধ্যে ৫৯টি উপজেলায় ভোট হবে। তারাকান্দা উপজেলার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালে। এ কারণে উপজেলাটিতে ভোট হবে না।

রাজশাহী অঞ্চলে ৬৭ উপজেলার মধ্যে ৬৭টিতেই এবছর ভোট করবে ইসি। বরিশাল অঞ্চলে ৪২টি উপজেলার সবকটিতেই ভোট হবে। খুলনা অঞ্চলে ৫৯টি উপজেলার মধ্যে ৫৯টিতে এবং ফরিদপুর অঞ্চলে ২৯ মধ্যে ২৯টি উপজেলায় ভোট হবে। কুমিল্লা অঞ্চলে ৫৪টির মধ্যে ৫১টিতে ভোট হবে। নোয়াখালী সদর, কুমিল্লার দাউদকান্দি ও লালমাই উপজেলায় ভোট হবে না এবছর।

সিলেট অঞ্চলে ৪০টির মধ্যে ৩৬টিতে ভোট হবে। সিলেটের ফেঞ্জুগঞ্জ উপজেলা, ওসমানীনগর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদে এবছর ভোট হবে না।

ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ হোসেন জানান, এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা পরিষদ ভোট হবে। ভোটের তফসিল হওয়ার পর ৩৫ থেকে ৪০ দিন সময় রাখা হতে পারে ভোটের জন্য । ৫ ধাপে ভোট হলে প্রতিটি ধাপের জন্য আলাদা আলাদা তফসিল হবে। অন্যান্য স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের মতো এ নির্বাচন গুলোতে সকাল ৯ টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

jagonews24

সূত্র জানায়, সরা দেশের সদর জেলার উপজেলা পরিষদে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এলক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ বিধিমালায় পরিবর্তন আনছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, উপজেলা নির্বাচন তো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই করতে হবে। যেহেতু ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষা আর এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষা। তাই আমরা মার্চ মাস ধার্য করেছি উপজেলা নির্বাচন করার জন্য। পাচঁ ধপে আমরা ভোটগ্রহণ করব। আইন অনুযায়ী, কোনো উপজেলা পরিষদের মেয়াদ পূর্তির আগের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সচিব বলেন, নির্বাচন সামগ্রী আগেই কেনা রয়েছে। নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য ইভিএম মেশিনও যথেষ্ট পরিমানে প্রস্তুত রয়েছে। তাই নির্বাচনের সিংহভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন বলা যায়। এখন শুধু ভোটের জন্য স্থানীয় সরকারের সম্মতি প্রয়োজন।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর ৪৬০টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়। দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরও ৪৬০টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়। তৃতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর ৪৭৫টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়। চতুর্থবারের মতো ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ছয় ধাপে ৪৮৭টিতে নির্বাচন হয়।

এইচএস/এমবিআর

আপনার মতামত লিখুন :