২৪ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৬ বছরে, বাড়ল ব্যয় ও সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৯

গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ছিল ২০১০ সালের জুলাইয়ে। প্রায় ৪২ কোটি টাকার এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালের জুনে। দুই দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়েও শেষ হয়নি সেই কাজ।

মঙ্গলবার নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তৃতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে এই প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয়। ‘গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ (তৃতীয় সংশোধন)’ প্রকল্পের সময় বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে এবং ব্যয় ধরা হয়েছে ১০২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঋণ ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ৬১ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর ইকুইটি ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৪১ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।

তৃতীয় দফায় প্রকল্প সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়, মূল প্রকল্পে শিল্পনগরীতে প্রবেশের জন্য পরিকল্পিত অ্যাপ্রোচ রোডের স্থানে রেল অধিদফতর কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গীপাড়া রেললাইন নির্মিত হওয়ায় এই রোড নির্মাণে জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের জন্য রেললাইনের উপরে ওভারপাস বা নিচ দিয়ে আন্ডারপাস নির্মাণে রেল অধিদফতরের আপত্তি থাকায় বর্তমানে শিল্পনগরীর পশ্চিম পাশে অবস্থিত রেলের বিদ্যমান আন্ডারপাস ব্যবহার করে নতুন অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে সংশোধিত লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করাসহ পিডব্লিউডি রেট ২০১৮ অনুযায়ী অসমাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় প্রাক্কলন করে ডিপিপি সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, মূল প্রকল্প ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। এর জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪২ কোটি ১২ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে প্রথম সংশোধনী এনে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এ সময় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তারপরও কাজ শেষ না হলে দ্বিতীয় সংশোধনী এনে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। অতিরিক্ত দ্বিতীয় দফায়ও কাজ শেষ করতে না পারায় তৃতীয় সংশোধনী আনা হলো আজকের একনেক সভায়।

একনেক বৈঠক শেষে এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আজকে যে প্রকল্প রিপিট করা হয়েছে, এটা কোনো নতুন প্রকল্প নয়। একটা বয়স্ক প্রকল্প, চলছে। বৃদ্ধি প্রসারের জন্য আজকে এসেছে। আজকে যেহেতু বর্ধিত আকারে এসেছে, এখানে বরাদ্দ দিবে। আগামীতে নতুন করে উন্নয়ন করতে বর্ধিত করার প্রয়োজন হয়, তখন দিবে।’

প্রদীপ দাস/জেএইচ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :