বোন-দুলাভাই-ভাগ্নের লাশের অপেক্ষায়

জসীম উদ্দীন
জসীম উদ্দীন জসীম উদ্দীন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ঘটনার দিন (বুধবার) রাত সাড়ে ১০টায় বোন ও ভাগ্নের সঙ্গে শেষ কথা হয় আনোয়ার হোসেন রনির। বোন আশিক টাওয়ারে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতো। বোন ও ভাগ্নেকে নিয়ে দুলাভাই সেখান থেকে বের হন ১০টা ৩৮ মিনিটে। এরপর থেকে নিখোঁজ দুলাভাই সালেহ মো. লিপু (৪০), বোন নাসরিন জাহান (৩২) ও ভাগ্নে আত্তাহি (৮)। দুলাভাইয়ের মোবাইলফোনের সর্বশেষ লোকেশন ছিল চকবাজারের সেই চুড়িহাট্টা।

নাসরিন জাহানের ভাই আনোয়ার হোসেন রনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক খুঁজেছি পাইনি ওদের। তাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এসেছি। কিন্তু মরদেহ শনাক্ত করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘আশিক টাওয়ারে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতো বোন। কাজ শেষে আদরের মেয়ে আত্তাহি’কে নিয়ে দুলাভাই গিয়েছিলেন বোনকে আনতে। এরপর থেকে নিখোঁজ ওরা। অনেক খুঁজেছি পাইনি। বাবা-মা পাগল প্রায়।

দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে বোন ও দুলাভাইয়ের ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখানে না পাওয়ায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের তথ্য কেন্দ্রে রিপোর্ট করেছি। তাদের ছবি দেখিয়েছে। চেনার মতো সম্ভাব্য সব ধরনের তথ্যও দিয়েছে। কিন্তু মরদেহ দেখে কেউ আমরা চিনতে পারছি না।’

আমার বোন-দুলাভাই ও ভাগ্নের মরদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা নিয়েছে সিআইডি। মরদেহ শনাক্ত করতে পরিবারের পক্ষ থেকে ডিএনএ নমুনা দেয়া হয়েছে সিআইডিকে।

নিখোঁজ সালেহ মোহাম্মদ লিপুর ছোট ভাই ইসমাঈল হোসেন ইসলাম বলেন, ‘আজ আমার ভাইকে অসময়ে হারাতে হলো। আদরের ভাতিজাকে দেখতে পাচ্ছি না। সেই হাসিটা কোথায় মিলিয়ে গেলো। আজ ভাইকে চিনতে আমার ডিএনএ নমুনা দিতে হচ্ছে। এর চেয়ে কষ্ট আর কী হতে পারে! আর কারও জীবনে যেন এমন দিন না আসে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ করছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের একটি টিম।

সিআইডি’র ফরেনসিক বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রোমানা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ২১ জনের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি। ১৫ জনের স্বজনরা মরদেহ নিখোঁজ বলে দাবি করছে। যাদের মরদেহ চেনা যাচ্ছে না তাদের আত্মীয়দের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তারপর মরদেহ নিশ্চিত হয়ে হস্তান্তর করা হবে। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সাতজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

জেইউ/জেএইচ/পিআর

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :