ফুটপাতে কদর ‘আদরের বাচ্চার’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ৩১ মে ২০১৯

‘ও ভাই, ও বইন, লন লন আদরের বাচ্চা বাইচ্ছ্যা লন।’ দু’হাতের পাঞ্জায় কয়েক জোড়া ছোট সাইজের জুতা উঁচু করে তুলে ধরে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন নিউমার্কেট ফুটওভার ব্রিজের নিচে সুমন নামের এক জুতা দোকানি।

‘আদরের বাচ্চা’ নামটি শুনে অনেকেই তার দিকে এগিয়ে আসেন। দামও খুব একটা বেশি নয়, সাইজ ও রংভেদে জুতা জোড়ার দাম সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। অপেক্ষাকৃত সস্তা দামের আদরের বাচ্চা নামের জুতা জোড়া অনেককেই কিনতে দেখা যায়। সুমন নামের ওই দোকানি জানালেন, শুধুমাত্র নামের কারণে শিশুদের এ জুতার কাটতি ভালো।

Shoe-2

সরেজমিন ফুটপাতের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ওভারব্রিজ সংলগ্ন গোল চত্বরটিতে জুতার বাজারটি বেশ জমে উঠেছে। নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ড যেমন-অ্যাডিডাস ও নাইকিসহ বিভিন্ন নামের জুতার ছড়াছড়ি। রাজধানীর কামরাঙ্গিরচর ও লালবাগসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন কারখানায় ডুপ্লিকেট এসব জুতা তৈরি হচ্ছে।

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অপেক্ষাকৃত স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ কয়েক হাজার টাকা খরচ করে অরিজিন্যাল ব্র্যান্ডের জুতা কিনতে পারে না। তারা মূলত ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে ডুপ্লিকেট ব্র্যান্ডের জুতা কিনে ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটান’।

Shoe-3

লালবাগ শহীদনগরের মাফুজ নামের একজন দর্জি ছেলের জন্য অ্যাডিডাস জুতা কিনতে দরদাম করছিলেন। দোক‌ানি ৮০০ টাকা দাম হাঁকলে তিনি ৪০০ টাকা দাম বলেন। এ সময় দোকানি বলে উঠেন, ‘বড় দোকানে গিয়া কাস্টমাররা দরদাম করে না। এখানে বলে অর্ধেক দাম।’ পরে অনেক দর-কষাকষির পরে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয় জুত‌াটি।

ঈদ আসলে স্বল্প আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। নিজের কষ্ট হলেও দুই ছেলে ও এক মেয়ের জন্য জামা ও জুতা কিনে দিয়েছেন বলে জানান এই অভিভাবক।

এমইউ/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]